‘জয় বাংলা’ লেখা ঘিরে হামলা, ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং এলাকায় দেয়ালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা থানার এজাহারকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার জেরে সংঘটিত এক ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি গত শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ছাত্রদলের গ্রাফিতির নিচে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এতে স্থানীয় এনজিওকর্মী এস এম ইমরান ওরফে আব্দুর রহমানকে ১৩ নম্বর আসামি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে এলাকায় একাধিক পুলিশি অভিযান পরিচালিত হয় এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলতে থাকে বলে ভুক্তভোগী পক্ষ দাবি করেছে।

এস এম ইমরানের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন তিনি সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে টাইপালং স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তার পরিচিত ছাত্রলীগ কর্মী মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে দেখা হলে তারা কথা বলছিলেন। পথিমধ্যে ৭/৮ জন বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মী তাদের দেখতে পেয়ে অতর্কিতভাবে মারধর শুরু করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরবর্তীতে ঘটনাটি দেখে ইমরানের মা ছৈয়দা খাতুন (৫৫), তার স্ত্রী এবং ছোট বোন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। এ সময় হামলাকারীরা তাদের ওপরও আঘাত করে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে ছৈয়দা খাতুন গুরুতরভাবে আহত হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ছৈয়দা খাতুন একই এলাকার ছব্বির আহমদের স্ত্রী। ঘটনায় এস এম ইমরান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিচে ঘটনাটির প্রধান ভুক্তভোগীদের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

নামবয়সপরিচয়অবস্থা
ছৈয়দা খাতুন৫৫ছব্বির আহমদের স্ত্রীনিহত
এস এম ইমরান (আব্দুর রহমান)৩২এনজিওকর্মীআহত

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইমরান দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও ‘ছাত্রলীগ ট্যাগ’ দিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় রাজনৈতিক নেতাদের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তিকে হয়রানি ও মামলায় জড়ানোর ঘটনা ঘটছে।

অন্যদিকে, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে হাসপাতাল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।