খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই মে ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সফরকারী পাকিস্তানের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম দিনে সিলেটের উইকেটে পেস এবং স্পিন দুই বিভাগেই পাকিস্তানি বোলাররা স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। ফলে শেষ বিকেলে সফরকারী দল যখন প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করে, তখন উইকেট থেকে বাংলাদেশি বোলাররা কতটুকু সুবিধা আদায় করতে পারবেন, তা পুরোপুরি স্পষ্ট ছিল না। প্রথম দিন শেষে পাকিস্তান ৬ ওভার ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলেছিল। তবে আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হতেই দৃশ্যপট বদলে দেন বাংলাদেশের ডানহাতি দ্রুতগতির বোলার তাসকিন আহমেদ। তাঁর চমৎকার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও জোড়া আঘাতে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান।
আজ দ্বিতীয় দিনের সকালের সেশনে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের সম্পূর্ণ চাপে রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে বোলিং শুরু করেন দুই উদ্বোধনী বোলার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা শুরু থেকেই ব্যাটসম্যানদের হাত খুলে খেলার কোনো সুযোগ দেননি। এর ফলে সাফল্য পেতে বাংলাদেশকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। দিনের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদ পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান।
মিরপুর টেস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ২৩ বছর বয়সী এই ওপেনার আগের টেস্টের দুই ইনিংসেই অর্ধশতক করেছিলেন। তবে আজ তাসকিনের আউটসুইং বল রক্ষণাত্মক খেলার চেষ্টায় তিনি উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন। উইকেটরক্ষক লিটন দাস তাঁর বাঁ দিকে চমৎকারভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি তালুবন্দী করেন। ফলে ব্যক্তিগত ৯ রান করে ফজল বিদায় নিলে ২২ রানে পাকিস্তানের প্রথম উইকেটের পতন ঘটে।
পাকিস্তানের এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নিজের পরবর্তী ওভারে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। এবার তিনি ফিরিয়ে দেন পাকিস্তানের অপর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আজান আওয়াইসকে। তাসকিনের করা একটি বল পিচে পড়ে কিছুটা দেরিতে সুইং করলে আজান আওয়াইস পরাস্ত হন এবং বল তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে শর্ট লেগ অঞ্চলে চলে যায়। সেখানে অবস্থান করা ফিল্ডার মুমিনুল হক কোনো ভুল না করে ক্যাচটি লুফে নেন। নিজের অভিষেক টেস্টে শতক হাঁকানো আজান আওয়াইস আজ মাত্র ১৩ রান করে ক্রিজ ছাড়তে বাধ্য হন। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে ২৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তীব্র ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে।
ম্যাচের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং প্রথম ইনিংসের প্রধান পারফরম্যান্সসমূহ নিচে সারণির মাধ্যমে সংক্ষেপে প্রদর্শন করা হলো:
| বিভাগ ও সূচক | স্বাগতিক বাংলাদেশ দল | সফরকারী পাকিস্তান দল |
| প্রথম ইনিংসের দলীয় সংগ্রহ | ২৭৮ রান (১০ উইকেট হারিয়ে) | ২৩ রান (২ উইকেট হারিয়ে, চলমান) |
| ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান | লিটন দাস (১২৬ রান) | আজান আওয়াইস (১৩ রান) |
| ইনিংসের সফলতম বোলার | তাসকিন আহমেদ (২ উইকেট, চলমান) | খুররম শেহজাদ (৪ উইকেট) |
| উদ্বোধনী জুটির অবদান | — | ২২ রান (আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস) |
এর আগে ম্যাচের প্রথম দিনে শুরুতে ব্যাটিং করতে নেমে চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে শীর্ষ সারির ব্যাটসম্যানরা প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে স্কোরবোর্ডে লড়াকু পুঁজি জমা করা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়। সেই কঠিন মুহূর্তে দলের হাল ধরেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন দাস। তিনি এক প্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানি বোলারদের নিখুঁতভাবে মোকাবিলা করেন এবং ১২৬ রানের একটি লড়াকু শতক উপহার দেন।
লিটনের এই দুর্দান্ত সেঞ্চুরির কল্যাণেই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের একটি সম্মানজনক সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন খুররম শেহজাদ, যিনি একাই ৪টি উইকেট লাভ করেন। তবে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হলেও দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই তাসকিন আহমেদের এই জোড়া সাফল্য স্বাগতিক দলকে ম্যাচে চালকের আসনে বসিয়েছে।
মন্তব্য