
তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ পর্যায়ে আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির ঘটনা ঘটছে।
সাইবার অপরাধ সচেতনতা ফাউন্ডেশনের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অনলাইনভিত্তিক অপরাধের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাকিং সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে, যা মোট অপরাধের ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হ্যাকিংয়ের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৭২ শতাংশ সামাজিক মর্যাদাহানির শিকার হয়েছেন এবং ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ তরুণ বয়সী। আক্রান্তদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ৭৮ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং প্রায় ৫৯ শতাংশ নারী। এতে বোঝা যায়, তরুণ এবং নারী ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
| বিষয় | হার |
|---|---|
| মোট সাইবার অপরাধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাকিং | ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ |
| সামাজিক মর্যাদাহানি | ৪৭ দশমিক ৭২ শতাংশ |
| আর্থিক ক্ষতি | ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ |
| ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর | ৭৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ |
| নারী ভুক্তভোগী | প্রায় ৫৯ শতাংশ |
বাংলাদেশে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্দিষ্ট কোনো বীমা ব্যবস্থা প্রচলিত না থাকলেও কিছু বীমা প্রতিষ্ঠান অনলাইনভিত্তিক ঝুঁকি বীমা প্রদান করছে। এর মধ্যে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হ্যাকিং, তথ্য চুরি এবং ডিজিটাল প্রতারণাজনিত আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করে থাকে।
এই ধরনের বীমা সুবিধার আওতায় সাধারণত আর্থিক ক্ষতিপূরণ, আইনগত সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার, ব্যক্তিগত তথ্য উদ্ধার এবং ডিজিটাল পরিচয় পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদান করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমা সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রথমে বাংলাদেশ সরকারি কম্পিউটার ঘটনার প্রতিক্রিয়া দল বা সংশ্লিষ্ট সাইবার নিরাপত্তা সংস্থায় অভিযোগ জানাতে হয়। এরপর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে হয়। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে দুই ধাপ যাচাইকরণসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল—এমন প্রমাণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশে সাইবার ঝুঁকি বীমার ধারণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও অনলাইনভিত্তিক অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের বীমা ভবিষ্যতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বীমা ব্যবস্থা একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে বিকাশ লাভ করছে। তবে এর কার্যকারিতা বাড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সহজে সুরক্ষা সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
> বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ আলোচনায় নতুন বাণিজ্যদ্বার
> ব্যাংকগুলোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উদ্বেগ
> চট্টগ্রামে মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
> চন্দনাইশে নিষিদ্ধ সংগঠনের দুই কর্মী গ্রেপ্তার
> বিসিবির উদ্যোগে কিউরেটর তৈরির প্রথম প্রশিক্ষণ কর্মশালা
> আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ স্মিথ
> ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত কয়েকজন
> যশোরে আওয়ামী লীগের ৯ নেতাকর্মী কারাগারে
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের তালিকা ও ফোন নম্বর
> বানরের আতঙ্কে ভীত লালবাজারবাসী ডিসি বরাবর আবেদন
> চাটখিলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য