জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৪ পিএম

কক্সবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দিনের আলোয় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় অবশেষে কারাগারে যেতে হলো বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ওরফে লিয়াকত মেম্বারকে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইরফানুল হক চৌধুরী তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। লিয়াকত ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ মে বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের পেছনের গেটসংলগ্ন সড়কে হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মইনুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার সময় উপস্থিত জনতা ধাওয়া দিয়ে জিয়াউল নামে এক যুবককে ধরে পুলিশে দেয়। পরে পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ দুজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সদর থানায় ভুক্তভোগী ও পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে।
তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় কিছুদিন পরই। সিসিটিভি ফুটেজ ও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। তদন্ত কর্মকর্তারা দেখতে পান, মূলতঃ প্রশাসনিক সুবিধা হাসিল ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে লিয়াকত গ্রুপের নিজস্ব সুক্ষ্ম ও মাস্টারমাইন্ড পরিকল্পনায় পুরো ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল। ভিডিও তথ্য প্রমাণ মেলাতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিক তদন্ত প্রতিবেদনে বিএনপি নেতা লিয়াকতের সরাসরি সম্পৃক্ততা পান এবং তাঁকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
শুরুতে লিয়াকতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাঁকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে। তবে পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ ও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, মূলত প্রশাসনিক সুবিধা হাসিল ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে লিয়াকত গ্রুপের পরিকল্পনায় সাজানো ঘটনাটি ঘটেছিল। ভিডিও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিক চার্জশিটে লিয়াকত আলীর নাম যুক্ত করেন।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, তদন্তে ঘটনা সাজানো ও অস্ত্র ব্যবহারে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় লিয়াকতের নাম চার্জশিটে যুক্ত করা হয়। সেই মামলায় তিনি জামিন চাইলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ মামলায় র্যাব-১৫ কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত মো. মেহেদীসহ এ পর্যন্ত লিয়াকত মেম্বার ও তাঁর সহযোগীদের নিয়ে মোট চারজন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য