জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১৪ পিএম

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের এক মসজিদের ইমামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তের নাম হুমায়ুন আহমেদ (৩০)। বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এমদাদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
একই দিনে ঘটনাটির শিকার ওই একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আদালতে হাজির হয়ে ২২ ধারায় নিজের জবানবন্দি প্রদান করেন।
অভিযুক্ত হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে। স্থানীয় একটি জামে মসজিদে ইমামতির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামলা সূত্রে জানা যায়, সম্পর্কের সূত্র ধরে অভিযুক্ত ইমাম তরুণীকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। বিষয়টি কাউকে না জানাতে তরুণীকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হুমকিও দেন তিনি। পরবর্তীতে একাধিকবার একই ধরনের ঘটনা ঘটলে তরুণী তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু হুমায়ুন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন।
সহায় সম্বলহীন ও উপায়ান্তর না দেখে গত ২৬ জুলাই ভুক্তভোগীর বাবা সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগটি নথিভুক্ত করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। বিচারকের নির্দেশনা পাওয়ার পর পুলিশ তদন্তে নামে এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের বাজার এলাকা থেকে হুমায়ুন আহমেদকে গ্রেফতার করে।
মামলার জামিন শুনানি ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আদালতের জেনারেল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (জিআরও) এএসআই ফরিদ আহমেদ জানান, আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো—শুনানির সময় অভিযুক্ত ইমামের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত হননি বা ওকালতনামা জমা দেননি।
অন্যদিকে, গ্রেফতারের পর হুমায়ুন আহমেদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কিছু শুভানুধ্যায়ী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ইমামের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও মামলার প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য