খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ১:৫৬ এএম

রাজধানীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে ভাসমান দোকান বসানো এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদল এবং নিউমার্কেট থানা যুবদলের অনুসারীদের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। এ সময় নিউমার্কেট ও বলাকা সিনেমা হল সংলগ্ন সড়কে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয় ও নিউমার্কেট থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলের অনুসারীরা একটি ভাসমান দোকান বসান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী গিয়ে ওই দোকান তুলে দিতে চাইলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বাধীন ৫০-৬০ জনের একটি দল ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার খবর মুহূর্তের মধ্যে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছালে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী সংগঠিত হয়ে নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট-সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা চালান এবং তা ভাঙচুর করেন। এরপর উভয় পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এতে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খানসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নিকটস্থ পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি অভিযোগ করে জানান, যুবদলের চঞ্চলের অনুসারীদের অতর্কিত হামলায় তাঁদের অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তবে কে এম চঞ্চল নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, ফুটপাতে সাধারণ যুবদল কর্মীরা ব্যবসা করছিল। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী এসে তাদের মারধরসহ তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
ঘটনার নিশ্চিত করে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন জানান, ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসানো এবং তার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া নিয়েই সংঘর্ষের সূত্রপাত। ঘটনার পরপরই পুলিশ পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুনরায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রিয়াঙ্গন মার্কেট ও বলাকা হলের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্য