জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ৭:১০ পিএম

দেশে হামের সংক্রমণ ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজন এবং নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুধবার, ১২ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮৮৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭৮৬ জনের। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৯৪১ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮৪ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১২৫ জন।
অন্যদিকে, পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।
হামের বিস্তারের চিত্র আরও স্পষ্ট হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরিসংখ্যানে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ১৩ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন।
তবে নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। বিশেষ করে এক দিনে ৯৪১ জনের হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ার তথ্য দেখাচ্ছে, সংক্রমণের চাপ এখনও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিপুল সংখ্যাও সেই চাপেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হলেও টিকা না নেওয়া বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিরাও আক্রান্ত হতে পারেন। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা অন্যান্য গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে শনাক্ত রোগীদের চিকিৎসা, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে প্রয়োজনীয় দূরত্বে রাখাও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৮৮৫ জনের মৃত্যুর তথ্য পরিস্থিতিটির গুরুতর দিকটি সামনে এনেছে। নতুন রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা কীভাবে পরিবর্তিত হয়, আগামী দিনগুলোতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যানের দিকে তাই নজর থাকবে।
মন্তব্য