রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির এক ষোড়শী ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক স্থানীয় নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আইনের আওতায় আনে। বুধবার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিধিধীন বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুর ইসলাম সানবি এবং তার সহযোগী নাজিম। তবে ঘটনার মূল হোতা ও প্রধান অভিযুক্ত শাকিল (২৩) এখনো পুলিশের নাগালের বাইরে রয়েছেন এবং তাকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী প্রতিদিন নিয়মিতভাবে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাতায়াত করত। কিন্তু বখাটে প্রকৃতির যুবক শাকিল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন গত সোমবার সকাল আটটার দিকে মেয়ের মা আরিফা আক্তার নিজ দায়িত্বে তাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসেন। এরপর দুপুর সোয়া দুইটার দিকে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে পুনরায় স্কুল গেটে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, ঠিক দুপুর দুইটার দিকে স্কুল গেটের প্রধান ফটকের সামনে থেকে বখাটে শাকিল ও তার সহযোগীরা অসৎ উদ্দেশ্যে ফুসলিয়ে জোরপূর্বক ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে।
মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা ও কান্নার রোল পড়ে। পরে এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় অপহৃত স্কুলছাত্রীর মা আরিফা আক্তার বাদী হয়ে মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। দায়েরকৃত অভিযোগে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে বখাটে শাকিলকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, এই অপহরণকাণ্ডের নেপথ্যে এনসিপি নেতা তৌহিদুর ইসলাম সানবি এবং তার সহযোগী নাজিমের সরাসরি ইন্ধন, সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা ছিল। অপরাধের সঙ্গে নাম জড়ানোর পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, স্কুলছাত্রী অপহরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দায়ের করা মামলার নিবিড় তদন্ত চলাকালে এনসিপি নেতা সানবি ও নাজিমের অপরাধমূলক সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। প্রাথমিক তদন্তে এই অপহরণের পেছনে তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার মূল অভিযুক্ত শাকিলকে গ্রেপ্তার করতে এবং অপহৃত স্কুলছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য