জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ৭:১৮ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরা সম্ভব না হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরবেন, তখন তার সঙ্গেই ফেরার চেষ্টা করবেন।
২০২৪ সালে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ওই ঘটনার পর শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেক ব্যক্তি এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। সেই প্রেক্ষাপটে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হয়, যার মধ্যে একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, সরকার যদি তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয় এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে তিনি দেশে ফিরে আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের আইনগত মোকাবিলা করবেন। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় দলের হয়ে পরিকল্পিত বিদায়ী সিরিজ খেলতেও আগ্রহী বলে জানান।
দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাকিব বলেন, তার ইচ্ছা যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে ফিরে আসা। তবে কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সময় তার সঙ্গেই ফেরার চেষ্টা করবেন।
এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা আগামী ডিসেম্বর মাসে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন। সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সাকিব নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন।
শেখ হাসিনাকে ‘অধিনায়ক’ উল্লেখ করে সাকিব বলেন, “অধিনায়ক যা বলেন, আমরা তাই অনুসরণ করি। আমি মনে করি, তারা ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন, আর আমরা তাদের নির্দেশনা মেনে চলব।” এই মন্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে সাকিব শ্রীলঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন। সেখান থেকেই টেলিফোনে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সরকার যদি আমাকে ক্লিয়ারেন্স দেয় এবং আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে আমি দেশে ফিরে আদালতের বিচারসহ যা যা করার প্রয়োজন, সবকিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।”
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে সাকিবের বক্তব্য, “আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।” গত প্রায় দুই বছর বিদেশে অবস্থানকালে নিজের পরিস্থিতি নিয়ে এটিই ছিল তার সবচেয়ে বিস্তৃত ও বিস্তারিত প্রকাশ্য মন্তব্য।
একসময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত সাকিব রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন। জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতা তাকে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য করেছে।
সাকিবের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি দেশে ফিরে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চান। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে বিদায়ী ম্যাচ খেলার ইচ্ছাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে তার দেশে ফেরা কবে এবং কীভাবে সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে সরকারের সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান মামলাগুলোর আইনগত অগ্রগতির ওপর।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য