খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪০ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যে তিন দফা দাবিতে চলমান আমরণ অনশন কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে অনশনস্থলে উপস্থিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা—প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন।
Table of Contents
অনশনস্থলে গিয়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবেন।
উপাচার্য বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এর চূড়ান্ত সমাধান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নয়, বরং জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি জানান, অনশনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে চিকিৎসক দল পাঠানো হয়েছে এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
তবে উপাচার্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম বলেন, তাদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই যতক্ষণ না তিন দফা দাবি পূরণ করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, উপাচার্যের বক্তব্যে সরকারের অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে এবং আলোচনায় আন্দোলনকারীদের প্রতি যথাযথ সহানুভূতি অনুপস্থিত ছিল।
তার ভাষায়, “আমরা শুরু থেকেই স্পষ্ট—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা হয় লড়াই করব, না হয় জীবন দেব—এখানে কোনো আপস নেই।”
অনশন কর্মসূচিতে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন, যা আন্দোলনকে রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন—
তাঁরা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান।
গত বুধবার (তারিখ উল্লেখিত সময় অনুযায়ী) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজু ভাস্কর্যে তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন তিনজন শিক্ষার্থী।
তাঁরা হলেন—
তাঁদের দাবিগুলো মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণভোটের রায় কার্যকরসহ রাজনৈতিক ও নীতিগত ইস্যুর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | রাজু ভাস্কর্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| আন্দোলনের ধরন | আমরণ অনশন |
| অংশগ্রহণকারী | ৩ জন শিক্ষার্থী |
| দাবির সংখ্যা | ৩ দফা দাবি |
| প্রশাসনিক উপস্থিতি | উপাচার্যসহ ৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা |
| রাজনৈতিক সংহতি | ৩ জন সংসদ সদস্য |
| বর্তমান অবস্থা | অনশন অব্যাহত, সমাধান অনিশ্চিত |
ঢাবি প্রশাসন বারবার অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই চাপ তৈরি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিচ্ছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দাবি আদায় ছাড়া কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য