মানিকগঞ্জে হামে আক্রান্ত শিশুতে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি রেকর্ড

মানিকগঞ্জে হামের সংক্রমণ হঠাৎ করেই উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১৪ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতনতা বজায় রাখলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বছরের পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। রোগী ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিচের সারণিতে দেওয়া হলো—

হাসপাতাল/উপজেলাভর্তি শিশু সংখ্যা
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ১১
মুন্নু মেডিকেল কলেজ
সিংগাইর উপজেলা হাসপাতাল
ঘিওর উপজেলা হাসপাতাল
সাটুরিয়া উপজেলা হাসপাতাল
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল
দৌলতপুর উপজেলা হাসপাতাল
হরিরামপুর উপজেলা হাসপাতাল
মোট৩৯

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইতোমধ্যেই হামের চিকিৎসার জন্য ১০ শয্যার একটি বিশেষ ইউনিট চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের শিশু বিভাগে মোট ৪৮টি শয্যা থাকলেও রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় আলাদা ইউনিটের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসা ও সতর্কতা

ডা. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, “হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে সচেতনতা অপরিহার্য। হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।”

টিকাদান ও ঝুঁকি

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর উল্লেখ করেছেন, “যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “হামের বিস্তার রোধে নিয়মিত টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।”

প্রভাবিত পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা

দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারি গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়া জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পরদিন থেকেই তার এক বছরের ছেলের জ্বর শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও জ্বর না কমায় এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে শিশুটি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, শিশুটি হামে আক্রান্ত। শিশুটিকে জন্মের পর কিছু টিকা দেওয়া হলেও সব টিকা সম্পন্ন হয়নি।

উপসংহার

মানিকগঞ্জে হামের হঠাৎ বৃদ্ধি সতর্কতার সংকেত দিচ্ছে। নিয়মিত টিকাদান, দ্রুত চিকিৎসা, এবং জনসচেতনতা এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান হাতিয়ার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ মনোযোগ দেয়া এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা মাত্র চিকিৎসকের কাছে নেওয়া।