খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৫৬ এএম

বাংলাদেশের ছোট পর্দার শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সম্প্রতি তাকে নিয়ে ছড়ানো নানাবিধ কুৎসা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কতিপয় অনলাইন পোর্টালে ‘বিমানবন্দরে অবৈধ পণ্যসহ আটক’ হওয়ার খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই সংকটের নেপথ্য ঘটনা পরিষ্কার করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
Table of Contents
গত বছরের আগস্টে একটি খবর চাউর হয় যে, ব্যাংকক থেকে ফেরার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল বিদেশি মদসহ আটক হয়েছেন মেহজাবীন। সেই খবরে আরও দাবি করা হয়, তার সঙ্গে স্বামী নির্মাতা আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্ত ছিলেন এবং রহস্যজনক কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ছেড়ে দেয়।
এই প্রসঙ্গে মেহজাবীন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তাকে কোনোদিন বিমানবন্দরে থামানোই হয়নি, এমনকি তার লাগেজও তল্লাশি করা হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটেই থাকে, তবে তার কোনো ছবি, ভিডিও বা নথিপত্র কি কারো কাছে আছে? স্রেফ ‘ক্লিকবেইট’ ভিউ পাওয়ার আশায় তার ছবি ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| মূল অভিযোগ | বিমানবন্দরে ১৪ বোতল মদসহ আটকের গুঞ্জন। |
| অভিনেত্রীর বক্তব্য | সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কোনো জিজ্ঞাসাবাদ বা তল্লাশি হয়নি। |
| গৃহীত পদক্ষেপ | সাইবার নিরাপত্তা ও মানহানি আইনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। |
| সঙ্গী হিসেবে দাবি | আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্ত (গুঞ্জন অনুযায়ী)। |
| পুরানো প্রসঙ্গ | পারিবারিক ব্যবসায়িক জটিলতা (যেখানে তিনি ইতোমধ্যে নির্দোষ প্রমাণিত)। |
| প্রতিবাদের মাধ্যম | ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি। |
মেহজাবীন তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে কারো মানহানি করাটা যেন অনেকের কাছে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ ‘নির্দোষ’ দাবি করে বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে কারোরই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কাম্য নয়। ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে একজন শিল্পীর ক্যারিয়ার ও সম্মান ক্ষুণ্ণ করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
উল্লেখ্য যে, মাস তিনেক আগেও পারিবারিক ব্যবসার অর্থ আত্মসাতের একটি অভিযোগ নিয়ে তিনি জটিলতায় পড়েছিলেন। তবে সেই সময়ও তিনি ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি লাভ করেন। একের পর এক এমন ‘টার্গেট’ হওয়াকে তিনি উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করছেন।
একজন জনপ্রিয় তারকা হিসেবে মেহজাবীন সব সময় ব্যক্তিগত জীবনকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখতেই পছন্দ করেন। কিন্তু যখন সম্মানহানি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকে না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই ধরনের অপপ্রচার ছড়িয়েছেন বা শেয়ার করেছেন, তাদের সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আইনের অধীনে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
সবশেষে তিনি তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ করেন যেন তারা সস্তা গুজবে কান না দেন এবং সঠিক তথ্য যাচাই না করে কোনো সংবাদ বিশ্বাস না করেন। তার এই কঠোর অবস্থান ইন্ডাস্ট্রির অন্য নারী শিল্পীদের জন্যও একটি শক্ত বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
মন্তব্য