জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

ভারতের উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও গ্যাংস্টার প্রয়াত আতিক আহমেদের ছোট ছেলে আবান আহমেদ। বৃহস্পতিবার সকালে দ্রুতগামী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আবান ও তাঁর এক বন্ধু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আরও তিনজন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচিত আতিক পরিবারের একের পর এক ট্র্যাজেডির ইতিহাস আবারও সর্বভারতীয় গণমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রমতে, আবান আহমেদ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে একটি সাদা ক্রিয়েটা গাড়িতে চড়ে ঝাঁসি কারাগারে বন্দি মেজো ভাই আলী আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঝাঁসির একটি মহাসড়কে দ্রুতগতির গাড়িটি হঠাৎ চালকের নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং মাঝখানের কংক্রিটের ডিভাইডারে সজোরে আঘাত হানে। তীব্র সংঘর্ষে গাড়িটির সামনের অংশ একদম দুমড়েমুচড়ে যায়।
ঝাঁসির সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) বিবিজিটিএস মূর্তি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আবান আহমেদ ও সোনু নামের অপর এক আরোহীকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা বাকি তিন আরোহী মারাত্মক আঘাত পান; বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে স্থানীয় হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি ও অপরাধজগতে দীর্ঘ সময় আধিপত্য চালানো আতিক আহমেদ খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ শতাধিক মামলার আসামি ছিলেন। ২০২৩ সালের মার্চে একটি আপহরণ মামলায় আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সেই সাজা ঘোষণার এক মাসের মাথায়, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল প্রয়াগরাজে পুলিশি প্রহরায় হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকের ছদ্মবেশে আসা বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন আতিক ও তাঁর ভাই আশরাফ।
আতিকের পাঁচ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে উমর আহমেদ বর্তমানে লখনউ কারাগারে এবং মেজো ছেলে আলী আহমেদ ঝাঁসি কারাগারে বন্দি আছেন। তৃতীয় ছেলে আসাদ আহমেদ ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঝাঁসিতেই পুলিশ এনকাউন্টারে নিহত হন। চতুর্থ ছেলে আহজাম আহমেদ মুক্ত অবস্থায় থাকলেও, সবশেষে সড়ক দুর্ঘটনায় ছোট ছেলে আবানের অকালমৃত্যু গোটা পরিবারের পরিণতিকে এক চরম বিষাদময় রূপ দিল।
মন্তব্য