জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ১০:২ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক অবস্থান ও দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী। আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক শত্রু না ভেবে মিত্র আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, খুব শিগগিরই তারা বিএনপির রাজনীতির মূলধারায় একীভূত হয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে দিরাই পৌর শহরের কেন্দ্রস্থল থানা পয়েন্টে স্থানীয় উপজেলা বিএনপি আয়োজিত ‘জুলাই স্মরণ সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এমন ব্যতিক্রমী মন্তব্য করেন। স্মরণ সমাবেশটি কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রথাগত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলের প্রতি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করে নাছির চৌধুরী বলেন, “আওয়ামী লীগ আমাদের কোনো শত্রু দল নয়, বরং তারা আমাদের রাজনৈতিক মিত্র। আমরা অতীতে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অচিরেই আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যাবে।”
সমাবেশে দলীয় শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও কড়া বার্তা দেন এই সংসদ সদস্য। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আহ্বানকারীদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আজকের এই ঐক্যবদ্ধ আয়োজনই দিরাইয়ে বিএনপির মূল ও একমাত্র বৈধ সমাবেশ। এর বাইরে বিএনপির আর কোনো গ্রহণযোগ্য সভা নেই। আগামী ৮ তারিখে যারা দলের ব্যানার ব্যবহার করে পৃথক সমাবেশের ডাক দিয়েছে, তারা মূলত দলীয় ঐক্য বিনষ্ট করতে চায়। সাধারণ নেতা-কর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ও বিভাজন সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য। এদের অপতৎপরতা সম্পর্কে দলের প্রতিটি স্তরের কর্মী-সমর্থকদের সজাগ থাকতে হবে।”
সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ নিয়ে সমাবেশে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন তিনি। নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে সমালোচকদের কড়া জবাব দেন নাছির চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমার কোনো ভাই নেই, আমি একাকী জীবনযাপন করি। অতীতে একটি সময় আমার থাকার ঘরবাড়ি পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন কোনো পথ না পেয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। মূলত তাদেরকে কোনো অন্যায় সুবিধা কিংবা দুর্নীতির সুযোগ না দেওয়াতেই তারা এসব মনগড়া কথা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।”
দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “যারা সমাজে রটাচ্ছে আমি নাকি লাখ লাখ টাকা লুটপাট করে খাচ্ছি, তাদের এই ভিত্তিহীন কথায় কান না দিয়ে সরাসরি উপজেলা পরিষদে চলে যান। সেখানকার ইউএনও সাহেবের কাছে গিয়ে বিস্তারিত হিসেব নিন—এ পর্যন্ত সরকারিভাবে কত টাকা বাজেট এসেছে এবং তা কোথায় কীভাবে খরচ করা হয়েছে। আমি যতদিন বেঁচে আছি, আমার এলাকায় কাউকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতি করার সুযোগ দেব না।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক সরদারের সঞ্চালনায় এই স্মরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর সহধর্মিণী পারভীন আক্তার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামসুল ইসলাম। এ ছাড়া সমাবেশে দিরাই ও শাল্লা উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছা
মন্তব্য