আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (আফকন) ফাইনালে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের কারণে সেনেগাল ও মরক্কোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ঘোষণা করেছে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ)। সংস্থাটি বুধবার দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে মোট ১০ লাখ ডলার (প্রায় ১২ কোটি ২৩ লাখ টাকা) জরিমানা এবং কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচকে বিভিন্ন মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
সিএএফ জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল আফ্রিকান টুর্নামেন্টের জন্য প্রযোজ্য হবে; জুনে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। উল্লেখ্য, উভয় দলই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে।
১৮ জানুয়ারি রাবাতে অনুষ্ঠিত মরক্কো–সেনেগাল ফাইনালে ঘটে যাওয়া প্রধান ঘটনা ছিল সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও-এর নেতৃত্বে খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে তুলে নেওয়া। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে মরক্কোর পক্ষে দেওয়া পেনাল্টির প্রতিবাদে এই ওয়াকআউট করা হয়।
জরিমানার বিবরণ
| দেশ/ব্যক্তি | অপরাধ | জরিমানার পরিমাণ (ডলার) | নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ |
|---|---|---|---|
| সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন | অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ, ওয়াকআউট | 615,000 (~7.52 কোটি টাকা) | – |
| মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন | অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ | 315,000 (~3.85 কোটি টাকা) | – |
| পাপে থিয়াও (সেনেগাল কোচ) | মাঠ থেকে খেলোয়াড় তুলে নেওয়া | 100,000 (~1.22 কোটি টাকা) | 5 ম্যাচ আফ্রিকান টুর্নামেন্ট নিষিদ্ধ |
| ইলিমান এনদিয়ায়ে (সেনেগাল) | অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ | – | 2 ম্যাচ |
| ইসমাইলা সার (সেনেগাল) | অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ | – | 2 ম্যাচ |
| আশরাফ হাকিমি (মরক্কো) | অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ | – | 2 ম্যাচ |
| ইসমায়েল সাইবেরি (মরক্কো) | অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ | 100,000 (~1.22 কোটি টাকা) | 3 ম্যাচ |
| মরক্কোর বল বয় | গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করা | 200,000 (~2.44 কোটি টাকা) | – |
ফাইনালের সময় মাঠে এবং গ্যালারিতে বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা যায়। প্রায় ১৫ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে সেনেগালের ওয়াকআউটের কারণে। পরে খেলা পুনরায় শুরু হলে মরক্কোর পেনাল্টি মিস করে, কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলের জয়ে আফ্রিকান শিরোপা ঘরে তোলে।
উক্ত ম্যাচে সমর্থকরা সাইডলাইনে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাতাহাতি ঘটে এবং প্রেস বক্সে সাংবাদিকদের মধ্যে মারামারি হয়। এমনকি একটি ঘটনায় মরক্কোর বল বয়রা সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দির মনোযোগ নষ্ট করতে তার তোয়ালে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ম্যাচের এই উত্তেজনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই বিষয়টি আফ্রিকান ফুটবলের জন্য ‘লজ্জাজনক’ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী উসমানে সলকো মরক্কো সফরে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে এবং ঘটনাটি আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিএএফ-এর এই কঠোর পদক্ষেপ আফ্রিকান ফুটবলের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
