ব্রাজিলীয় ফুটবল সুপারস্টার নেইমার একসময় পেশাদার ফুটবল ছাড়ার কথাও ভেবেছিলেন। এই তথ্য নিজেই প্রকাশ করেছেন তার বাবা ও এজেন্ট নেইমার দা সিলভা সান্তোস সিনিয়র। বিশেষ করে সাম্প্রতিক চোট এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মানসিক চাপের কারণে ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এমন একটি কঠিন সিদ্ধান্তের কথা ভেবেছিলেন।
বর্তমানে নেইমার মেনিস্কাসের চোটে ভুগছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে গিয়ে তিনি এসিএল এবং মেনিস্কাসে গুরুতর চোট পান। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ফিটনেস সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর তার বাঁ হাঁটুর অস্ত্রোপচার করা হয়।
নেইমারের মানসিক অবস্থার বিষয়টি ইউটিউবে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন তার বাবা। তিনি জানান, চোটের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নেইমার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি স্বীকার করেছিলেন, “আমি আর আগের মতো সামলাতে পারছি না। অস্ত্রোপচার করালেও কি আমি ভালো হয়ে ফিরতে পারব, তা নিয়েও সন্দিহান।”
নেইমার সিনিয়র ছেলেকে দুটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে বলেন—প্রথম, চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরে সমালোচকদের জবাব দেওয়া; দ্বিতীয়, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ধরে রাখা। বাবার সমর্থনই নেইমারের মানসিক শক্তি ফিরিয়ে আনে। পরদিনই নেইমারের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি আবার অনুশীলন শুরু করেন, দুই পা দিয়েই শট নেন এবং আত্মবিশ্বাস ফেরানোর ইঙ্গিত দেন। মাঠে গোল করার পর তিনি বাবাকে জানান, “শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।”
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি সান্তোসে ফিরে ব্রাজিলের সিরি আ লিগে মৌসুমের অর্ধেক সময় খেলতে সক্ষম হন। সেখানে মোট আটটি গোল করেন, যার চারটি আসে মৌসুমের শেষ দিকে। এই গোলগুলোই দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নেইমারের ক্যারিয়ার ও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বয়স | ৩৩ বছর |
| পেশাদার অভিষেক | ২০০৯ |
| ক্লাব | সান্তোস |
| সাম্প্রতিক চোট | মেনিস্কাস ও এসিএল চোট, ২০২৩ |
| অস্ত্রোপচার | বাঁ হাঁটু, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ |
| ব্রাজিল জাতীয় দলের গোল | ৭৯ গোল (১২৮ ম্যাচে) |
| বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ | ৩টি |
| ২০২৫ সালের সিরি আ লিগ গোল | ৮টি |
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ২০২৬ সালের মৌসুম শুরুর আগে নেইমার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন। তার বাবার সহায়তা ও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিই এই তারকাকে পুনরায় ফুটবল মাঠে ফিরতে সহায়তা করেছে।
