রাজশাহীতে একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। গত বছরের মার্চ মাসে নাটোরে প্রায় ৩৭ লাখ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় যথাযথ উৎস ও বৈধ প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই বিপুল অর্থ পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জন করা হয়েছিল।
সোমবার দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি ছাবিউল ইসলাম ছাড়াও অবৈধভাবে অর্থ বহন ও এর মালিকানা গোপন করার কাজে সহায়তা করার অভিযোগে আরও দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন বাপ্পি কুমার দাস ও রিন্তু কুমার দাস। বর্তমানে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকলেও ইতিপূর্বে ছাবিউল ইসলাম গাইবান্ধায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত অর্থ কোনো প্রকার বৈধ আয় থেকে আসেনি এবং তা পাচারের উদ্দেশ্যেই পরিবহন করা হচ্ছিল।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ১৪ মার্চ নাটোরে সিংড়া এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করে। তল্লাশির সময় ওই অর্থ গাড়ির পেছনের ডালার নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সে সময় ছাবিউল ইসলাম টাকার উৎস সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি, যা পরবর্তীতে দুদকের নজরে আসে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে দুদক নিশ্চিত হয়েছে যে, ছাবিউল ইসলাম তার দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন এবং তা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের চেষ্টা করছিলেন।
নিচে মামলার প্রধান তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান সারণি আকারে উপস্থাপন করা হলো:
এলজিইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সারসংক্ষেপ
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রধান অভিযুক্ত | মো. ছাবিউল ইসলাম (নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি) |
| সহায়তাকারী আসামি | বাপ্পি কুমার দাস ও রিন্তু কুমার দাস |
| মোট জব্দকৃত অর্থ | ৩৬,৯৪,৩০০ টাকা |
| উদ্ধারের সময়কাল | ১৪ মার্চ (গত বছর) |
| ঘটনাস্থল | সিংড়া উপজেলা, নাটোর |
| মামলার আইনি ধারা | মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (৪-এর ২ ও ৩) |
| অভিযোগের ধরণ | জ্ঞাতসারে অবৈধ অর্থ অর্জন, বহন ও স্থানান্তর |
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ছাবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে গাইবান্ধায় কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ছিল। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করে তা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে তিনি গুরুতর অপরাধ সংঘটন করেছেন। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডসহ আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।
বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম দুদকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিচালনা করছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছাবিউল ইসলাম ও তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য সম্পদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। একই সাথে, এই অর্থের পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অচিরেই আসামিদের আদালতে হাজির করার পাশাপাশি অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান প্রশাসনের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
