খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম

টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে জিম্বাবুয়েকে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তবে সেই চেনা প্রতিপক্ষের ডেরায় গিয়েই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এক পর্যায়ে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ হুট করেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মাত্র ২৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৮টি উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানেই গুটিয়ে গেছে সফরকারীদের ইনিংস।
রবিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। তবে ইনিংসের শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। দলীয় স্কোর বোর্ডে মাত্র ৩৬ রান জমা হতেই সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম অনিক। শুরুর এই ধাক্কা সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হয় দলকে।
টপ অর্ডারের দুই ব্যাটার দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর দলের হাল ধরেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ ও বর্তমান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এই দুই বাঁহাতি ব্যাটার ধীরস্থিরভাবে খেলে তৃতীয় উইকেটে ৭৭ রানের একটি চমৎকার পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। তাঁদের এই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ দল প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ২ উইকেটে ১১৩ রানে পৌঁছায়।
চমৎকার ছন্দে থাকা মুমিনুল হক ওয়ানডে মেজাজে খেলে ১১টি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারির সাহায্যে নিজের অর্ধশতক তুলে নেন। তবে ব্যক্তিগত ৬০ রানের মাথায় ৮১ বলে খেলে তিনি যখন সাজঘরে ফেরেন, তখনই দলের ইনিংসে মড়ক লাগে। মুমিনুল আউট হওয়ার পর মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। ডাউন দ্য উইকেটে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৭৩ বল খেলে মাত্র ১৯ রান করতে সমর্থ হন শান্ত।
দুই থিতু হওয়া ব্যাটার বিদায় নেওয়ার পর জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি বাকিরা। অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটার মুশফিকুর রহিম এবং তরুণ তাওহীদ হৃদয় ক্রিজে এসে দ্রুতই ফিরে যান। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অমিত হাসানও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি; মাত্র ৪ রান করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছানোর চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। দলীয় ১৪০ রানের মাথায় শেষ তিন ব্যাটার—তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও খালিদ হাসান একে একে বিদায় নেন। জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিং আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত ৪৭.২ ওভার খেলে ১৪০ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। উইকেটের এই অবিশ্বাস্য ধস এবং মাত্র ২৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৮ উইকেটের পতন ম্যাচটিতে বাংলাদেশকে শুরুতেই বেশ কোণঠাসা করে দিল।
মন্তব্য