কুমিল্লা নগরীতে স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের ওপর মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত গুলি বর্ষণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জনতা। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে রোববার দুপুরে নগরীর কাটাবিল এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মাদকবিরোধী ঐক্যজোট’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিক।
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একটি বুলেট তার পিঠ দিয়ে ঢুকে ফুসফুসে গিয়ে আটকে আছে। তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কুমিল্লা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা আর চলবে না
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ‘ফেস দ্য পিপল’-এর সম্পাদক সাইফুর রহমান সাগর প্রশাসনকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আমাদের বার্তা একটাই—কুমিল্লার পবিত্র মাটি থেকে মাদক ও মাদক কারবারিদের চিরতরে বিদায় করতে হবে। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে যারা এসব অপকর্ম করছে, তাদের দিন শেষ। সাধারণ মানুষ এখন নিজেরাই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবে।” একই সঙ্গে তিনি আগামী ৩ দিনের মধ্যে মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সময়সীমা বেঁধে দেন।
মাদকবিরোধী ঐক্যজোটের সভাপতি আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা এমরান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আবু রায়হান এবং স্থানীয় ছাত্র নেতৃবৃন্দ। বক্তারা প্রত্যেকেই কুমিল্লাকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
যেভাবে গুলিবিদ্ধ হলো স্কুলছাত্র প্রেম
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা, অবৈধ চাঁদাবাজি এবং নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে সন্ত্রাসী অপু ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এই দুই গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হঠাৎ করেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুপক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গোলাগুলি হয়। ঠিক ওই সময়ই স্কুল থেকে পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরছিল ছাত্র ইথান আহমেদ প্রেম।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকালেই এলাকায় একটি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল প্রেম। মাদক কারবারিরা সেই ক্ষোভ থেকেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর প্রেমের বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে সন্ত্রাসী সাব্বির ও অপুর নাম উল্লেখসহ মোট ছয়জনকে আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার পর বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও মূল অপরাধীরা এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।
এদিকে এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইথানের মতো একজন নিরীহ ছাত্রের গায়ে গুলি লাগার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মুখোমুখি করতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।









