রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা শহরের সোনারগাঁও মোড় এলাকায় মোবাইল ব্যবসায়ীদের আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এই সংঘর্ষে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. শওকত আলী বলেন, “সকাল থেকেই কিছু মোবাইল ব্যবসায়ী সোনারগাঁও ক্রসিং এলাকায় অবস্থান নেন। বেলা ১১টার দিকে তারা পুরো রাস্তা বন্ধ করলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। জনভোগান্তি চরমে পৌঁছালে পুলিশ আইনের আওতায় থেকে তাদের সরানোর চেষ্টা করে এবং প্রথম দফায় তারা এলাকা ছেড়ে যায়।”
কিছুক্ষণ পর আবারও কিছু ব্যবসায়ী রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়। সংঘর্ষের সময় পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কয়েকজন আহত হন। আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ব্যবসায়ী কি না এবং তাদের পেছনে কোনো দুষ্কৃতকারী রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রমনা বিভাগের এডিসি আরও জানান, “আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পরে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকে যায়। সেখানে কারা ছিল এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে কি না, তা পুলিশ তদন্ত করছে।”
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. ইবনে মিজান বলেন, “আন্দোলনকারীরা সোনারগাঁও মোড়সহ আশপাশের এলাকায় রাস্তায় বসে পড়ে। বারবার অনুরোধ করেও তারা সরে না গেলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। হঠাৎ সোনারগাঁও মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
ডিসি ইবনে মিজান উল্লেখ করেন, আন্দোলনকারীরা পুলিশের কাছে কোনো সরাসরি দাবি জানায়নি। তাদের উদ্দেশ্য মূলত জনভোগান্তি সৃষ্টি করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা বলে মনে হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় বর্তমানে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট:
দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য সরকার ১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সকল ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হবে। এই ব্যবস্থার কারণে ব্যবসায়ীরা পূর্ব থেকেই আপত্তি জানাচ্ছিলেন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য (৪ জানুয়ারি, ২০২৬)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সংঘর্ষের স্থান | সোনারগাঁও মোড়, ঢাকা |
| সংঘর্ষের সময় | দুপুর, ৪ জানুয়ারি |
| পুলিশ সদস্য আহত | ৫+ (একজন এডিসি অন্তর্ভুক্ত) |
| আটক ব্যক্তি | ৫+ |
| ব্যবহৃত পুলিশ ব্যস্থা | জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস |
| আন্দোলনের মূল কারণ | NEIR কার্যক্রমের কারণে ব্যবসায়ীদের আপত্তি |
| পরিস্থিতি | বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে |
এই ঘটনায় দেখা গেছে, জনভোগান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে সমন্বয় করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকবেন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
