খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ৫:১১ পিএম

বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে আর্নেস্ট হেমিংওয়ে এমন এক কিংবদন্তি, যিনি সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী গদ্য, জীবনের নির্মম বাস্তবতা এবং মানুষের সাহস, প্রেম ও সংগ্রামকে অসাধারণ শিল্পে রূপ দিয়েছেন। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী এই মার্কিন কথাসাহিত্যিকের রচনা আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে পাঠকপ্রিয়।
আর্নেস্ট মিলার হেমিংওয়ের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ওক পার্কে। তাঁর পিতা ডা. ক্লারেন্স এডমন্ডস হেমিংওয়ে ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং মা গ্রেস হল হেমিংওয়ে ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী। স্কুলজীবন শেষ করে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন, যা তাঁর সংক্ষিপ্ত, প্রাঞ্জল ও বাস্তবধর্মী লেখনীর ভিত্তি গড়ে দেয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি ইতালীয় ফ্রন্টে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুতর আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। সেই অভিজ্ঞতারই শিল্পিত প্রকাশ ঘটে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস “এ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস”-এ। তাঁর প্রথম সফল “সূর্যও ওঠে” (১৯২৬) যুদ্ধোত্তর’হারানো প্রজন্ম’ ‘Lost Generation’-এর মানসিক সংকটকে বিশ্বসাহিত্যে নতুন মাত্রা দেয়।
হেমিংওয়ের উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে “ফর হুম দ্য বেল টোলস”, “দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি”, “মেন উইদাউট উইমেন”, “ইন আওয়ার টাইম”এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত “ট্রু অ্যাট ফার্স্ট লাইট”। “দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি”-এর জন্য তিনি ১৯৫৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কার এবং ১৯৫৪ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
জীবনের শেষদিকে শারীরিক অসুস্থতা, একাধিক বিমান দুর্ঘটনার আঘাত, বিষণ্নতা এবং মানসিক অবসাদ তাঁকে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করে। অবশেষে ১৯৬১ সালের ২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের কেচাম শহরের নিজ বাড়িতে নিজের শটগানের গুলিতে তিনি আত্মহত্যা করেন। তাঁর মৃত্যু বিশ্বসাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে আছে।
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এই মহান সাহিত্যিককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। তাঁর কালজয়ী সাহিত্যকর্ম মানবজীবনের সংগ্রাম, সাহস ও আশার প্রতীক হয়ে যুগে যুগে পাঠকদের অনুপ্রাণিত করবে।
মন্তব্য