খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ৬:২১ পিএম

খুলনার লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. রাতুল শেখ (২২) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে। ভোরের দিকে এলাকাটি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও হঠাৎ গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ চমকে ওঠেন। স্থানীয়রা জানান, শব্দ শুনে তারা দ্রুত আশিবিঘা বালুর মাঠ এলাকায় ছুটে যান এবং সেখানে এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
আহত রাতুল শেখ লবণচরা থানার হরিণটানা এলাকার প্রেম গলির বাসিন্দা শের আলীর ছেলে। তিনি ওই এলাকার আবু হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতোই সকালে তিনি বাইরে বের হন। কিছুক্ষণ পরই এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার খবর আসে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তার ডান পায়ের ঊরুতে গুলি লাগে। গুলির পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় আশপাশে থাকা কয়েকজন মানুষ এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে তার পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে লবণচরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করে। পুলিশ আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে। আহত যুবকের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করা হয়।
লবণচরা থানার উপপরিদর্শক আশরাফুল আলম জানান, ঘটনার কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, এ ঘটনার পর আশিবিঘা ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য উদঘাটনে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
মন্তব্য