খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ৫:২৮ পিএম

একটি বিশ্বকাপ, একটি অধরা স্বপ্ন আর ফুটবল ইতিহাসের দুই জীবন্ত কিংবদন্তির সম্ভাব্য শেষ অধ্যায়। শুক্রবার ভোরে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব বত্রিশের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পর্তুগাল। এই ম্যাচটি কেবল নকআউট পর্বে টিকে থাকার সাধারণ লড়াই নয়, বরং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদ্রিচের মতো দুই মহাতারকার বিশ্বকাপ যাত্রার শেষ ম্যাচও হয়ে যেতে পারে। হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়, এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে দুই দলই এখন স্নায়ুচাপে ভুগছে।
চলমান এই বিশ্বমঞ্চে নামার আগেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ৪১ বছর বয়সে এসে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার বাস্তব সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই সোনালী ট্রফিটি ছোঁয়ার শেষ সুযোগ হিসেবে এবারের আসরটি পর্তুগিজ মহাতারকার কাছে অত্যন্ত আবেগের এবং মর্যাদার।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য বিশ্বরেকর্ড এবং অসংখ্য ক্লাব শিরোপায় মোড়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ার। তাঁর অর্জনের তালিকা এত দীর্ঘ যে তা যেকোনো ফুটবলারের জন্য ঈর্ষণীয়। তবে এত কিছুর পরেও ফুটবল বিধাতা তাঁর ঝুলিতে এখনও একটি বিশ্বকাপ ট্রফি পুরে দেননি। ক্যারিয়ারের সেই একমাত্র অপূর্ণতা দূর করার লক্ষ্য নিয়েই এবার কোমর বেঁধে নেমেছিলেন সিআরসেভেন।
বিশ্বকাপের ঢোল বাজার আগে পর্তুগালকে অনেকেই শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু গ্রুপপর্বের পারফরম্যান্স সেই প্রত্যাশার পারদ কিছুটা নামিয়ে দিয়েছে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় পেলেও কঙ্গো ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে নিজেদের চেনা ছন্দ খুঁজে পায়নি দলটি। মাঠের খেলায় কৌশলগত কিছু দুর্বলতা স্পষ্ট ধরা পড়েছে।
ব্যক্তিগতভাবেও রোনালদো খুব একটা চেনা ছন্দে নেই। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ এক জোড়া গোল করলেও অন্য দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ তাঁকে বোতলবন্দি করে রেখেছিল। বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা নয়, তাঁর মাঠের নড়াচড়ায় সেই ছাপ কিছুটা স্পষ্ট। আগের সেই অতিমানবীয় গতি এখন আর নেই, এমনকি সহজ কিছু সুযোগও হাতছাড়া করতে দেখা গেছে তাঁকে। তবুও নকআউটের মতো বড় মঞ্চে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম এখনও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাঁর এক মুহূর্তের ঝলক ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জীবন-মরণ ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সিআরসেভেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম আইডিতে পর্তুগিজ সমর্থকদের গ্যালারিতে উল্লাসের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে মাত্র কয়েক শব্দে তিনি লিখেছেন, ‘মেক আস ফিল অ্যাট হোম।’ যার সহজ বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘আমাদের এমন অনুভূতি দাও যেন মনে হয় আমরা ঘরের মাঠেই খেলছি।’
নকআউট পর্বের এই কঠিন লড়াইয়ে হারের কোনো বিকল্প নেই। শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পর্তুগিজরা যেমন তাদের অভিজ্ঞ অধিনায়কের জাদুকরী পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে আছে, তেমনি রোনালদো নিজেও ভরসা রাখছেন গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের গগনবিদারি চিৎকারে। শুক্রবারের এই মহারণে তাই শুধু একটি দলের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে না, বরং ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করবে দুই কিংবদন্তির বিশ্বকাপ ইতিহাসের শেষ পাতার গল্পও।
মন্তব্য