রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে রাসেল মাহমুদ নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) রাতে উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ার শফিপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাসেল মাহমুদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মেয়েকে নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট দেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার পর শনিবার বিকেলে রাসেল মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টটি মুছে ফেলেন। একই সঙ্গে তিনি একটি ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করেন। ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি অসংযত ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং এ জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবারের কাছে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য না করার আশ্বাসও দেন তিনি।
ভিডিও বার্তা ও পরে প্রকাশিত ক্ষমাপ্রার্থনামূলক পোস্টে রাসেল মাহমুদ নিজেকে বিএনপি পরিবারের সদস্য ও ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বাঙ্গালহালিয়া ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ জানিয়েছেন, রাসেল মাহমুদ ২০১৮-১৯ সালে বাঙ্গালহালিয়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। একই সঙ্গে তার পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেলের বাবা রাজস্থলী উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি ছিলেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে তাকে আটক করে।
রাঙামাটির কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্তকে গত রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কটূক্তি বা আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনো বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
