সুন্দরবনে হরিণ ও মাছ শিকারের অপরাধে ট্রলারসহ ৪ শিকারি ও ৩ জেলে আটক

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শেলার চর এবং সুপতি বনাঞ্চল এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে হরিণ শিকারের ফাঁদসহ চারজন শিকারি এবং নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরার অপরাধে তিনজন জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগ। অভিযানকালে শিকার ও মৎস্য আহরণে ব্যবহৃত দুটি ট্রলার, বিপুল পরিমাণ ফাঁদ এবং জাল জব্দ করা হয়েছে। আটককৃত সাতজনকে বন আইনে মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শেলার চরে হরিণ শিকারি আটক ও সরঞ্জাম জব্দ

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যপ্রাণী নিধন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে শরণখোলা রেঞ্জের ‘স্মার্ট টহল টিম’-এর বনরক্ষীরা নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। টহল চলাকালীন বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় শরণখোলা রেঞ্জের শেলার চর টহল ফাঁড়ির অধীনস্থ ছাপড়াখালীর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শিকারিদের পেতে রাখা হরিণ শিকারের ফাঁদ বনরক্ষীদের দৃষ্টিগোচর হয়।

পরবর্তীতে বনরক্ষীরা ওই বনের ভেতর বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে বন থেকে হরিণ শিকারের বিপুল পরিমাণ ফাঁদ উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে চারজন হরিণ শিকারিকে আটক করা হয়। একই সাথে ঘটনাস্থলের অদূরে অবস্থিত একটি খাল থেকে শিকারিদের ব্যবহৃত একটি ট্রলারও জব্দ করেন বনরক্ষীরা। আটককৃত চার শিকারির বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামে।

সুপতি বনাঞ্চলে নিষিদ্ধ সময়ে মৎস্য শিকারি আটক

হরিণ শিকারি আটকের এই অভিযানের পাশাপাশি সুন্দরবনের সুপতি বনাঞ্চল এলাকায় অপর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে সুপতি বনাঞ্চলের ডোরা এলাকার সাইড খালে নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় তিনজন জেলেকে হাতেনাতে আটক করে বন বিভাগ।

জুন-আগস্ট এই তিন মাস সুন্দরবনের সব ধরনের নদী ও খালে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ থাকে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরার অপরাধে ওই তিন জেলেকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মাছ ধরার একটি ট্রলার এবং জাল জব্দ করা হয়েছে। আটককৃত এই তিন জেলের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার ছোট পাথরঘাটা গ্রামে।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক বক্তব্য

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা এবং সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বনের নিয়ম ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অমান্য করায় আটককৃত চার হরিণ শিকারি এবং তিন জেলের বিরুদ্ধে বন আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের বাগেরহাট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষার্থে বন বিভাগের এই ধরনের স্মার্ট ও বিশেষ টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আটককৃত ব্যক্তি ও জব্দকৃত সরঞ্জামের তথ্যসংক্ষেপ

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে পরিচালিত পৃথক দুটি অভিযানে আটককৃতদের বিবরণ এবং জব্দকৃত মালামালের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:

অভিযানের স্থান ও সময়অপরাধের ধরনআটককৃত ব্যক্তিদের নাম ও বয়সস্থায়ী ঠিকানা / বাসস্থানজব্দকৃত সরকারি আলামত ও সরঞ্জাম

ছাপড়াখালীর বন, শেলার চর

 

বুধবার সন্ধ্যা (১০ জুন)

অবৈধ হরিণ শিকার

১. সোলায়মান হাওলাদার (৪০)

 

২. রাসেল (৩৮)

 

৩. নয়ন বিশ্বাস (১৭)

 

৪. নুর আলম (১৮)

গ্রাম: উত্তর রাজাপুর

 

উপজেলা: শরণখোলা

 

জেলা: বাগেরহাট

১টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার এবং বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের ফাঁদ।

ডোরা এলাকার সাইড খাল, সুপতি

 

বুধবার বিকেল (১০ জুন)

নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা

১. হিরু (৪০)

 

২. আলমগীর (৩৫)

 

৩. তামীম মৃধা (১৯)

গ্রাম: ছোট পাথরঘাটা

 

উপজেলা: পাথরঘাটা

 

জেলা: বরগুনা

১টি মৎস্য আহরণের ট্রলার এবং অবৈধ মাছ ধরার জাল।

সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে এই ধরনের কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।