সীতাকুণ্ডে পৃথক দুর্ঘটনায় তিন প্রাণহানি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় পৃথক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় এক মাদরাসাছাত্রসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন এবং অপর একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় রেললাইনের পাশ থেকে। স্থানীয় বাসিন্দা, হাইওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সকালে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় অজ্ঞাত একটি দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন মো. হারুন (৫৪)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে তিনি রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি যানবাহন তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও পথেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

অন্যদিকে উপজেলার ছোট কুমিরা এলাকায় আরেকটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় মাদরাসাছাত্র মো. হাসান (১৫)। সে মিরসরাই উপজেলার মির্জাবাজার দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মিরসরাই থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী একটি শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে কুমিরার আকিলপুর সাগরপাড় এলাকায় ঘুরতে আসে।

শিক্ষার্থীরা একটি গাড়ি থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি হাসানকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তার মৃত্যু হয়। সহপাঠীদের সামনে এমন দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হক জানান, পৃথক দুটি স্থান থেকে নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যানবাহন শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। পাশাপাশি মহাসড়কে নিরাপদ পারাপার ও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নজরদারির কথাও জানান তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাড়বকুণ্ড এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা রেললাইনের পাশে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

সীতাকুণ্ড রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই দীপক দেওয়ান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

নিরাপদ সড়ক ও রেলপথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।

দুর্ঘটনার ধরনস্থাননিহত ব্যক্তিবয়সপ্রাথমিক কারণ
সড়ক দুর্ঘটনাবার আউলিয়া, সোনাইছড়িমো. হারুন৫৪দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কা
সড়ক দুর্ঘটনাছোট কুমিরামো. হাসান১৫রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়িচাপা
রেল দুর্ঘটনাবাড়বকুণ্ডঅজ্ঞাত ব্যক্তিআনুমানিক ৫৫চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়ার ধারণা