খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুন ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ১১ দিন পর মাহিয়া (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) উপজেলার জামির্ত্তা চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে অবস্থিত পরিত্যক্ত ভিটার বাঁশবাগান থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। এর আগে গত ১০ জুন সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাত্যহিক ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে উক্ত স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হয়েছিল। ঘটনার দীর্ঘ দিন পর নিখোঁজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় চন্দননগর, চরলক্ষ্মীপুরসহ আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নিহত স্কুলছাত্রী মাহিয়া উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের মেয়ে। সে স্থানীয় সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী ছিল।
পারিবারিক তথ্যানুযায়ী, গত ১০ জুন সকালে মাহিয়া প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। স্কুল ছুটি হওয়ার পর অন্যান্য সহপাঠীদের সাথে সে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলেও পরবর্তীতে আর ঘরে ফিরে আসেনি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও মارهای কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে সন্ধান চালান। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান না মেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল এবং পুলিশ নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধানে তদন্ত শুরু করে।
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মাহিয়ার কোনো হদিস মিলছিল না। সর্বশেষ রোববার (২১ জুন) সকালে স্থানীয় চন্দননগর এলাকার বাসিন্দারা কবরস্থানের পাশের একটি পরিত্যক্ত ভিটায় অবস্থিত বাঁশবাগানে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মাহিয়ার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পোশাক ও অবয়ব দেখে মরদেহটি নিখোঁজ মارهای বলে শনাক্ত করেন।
পরবর্তীতে থানা পুলিশকে সংবাদ দেওয়া হলে সিংগাইর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা ঘটনাস্থলটি সুরক্ষিত করেন এবং আইনগত সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রাথমিক আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। মরদেহটি দীর্ঘ দিন আগের হওয়ায় তা কিছুটা বিকৃত হতে শুরু করেছিল বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল পর্যবেক্ষণ শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। স্কুলছাত্রী বাড়ি ফেরার পথে কীভাবে এবং কাদের মাধ্যমে উক্ত পরিত্যক্ত স্থানে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ—এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। এই ঘটনায় নিহত ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে সিংগাইর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত কোনো অপরাধী চক্র বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ইতিমধ্যে অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য