আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে কুরবানির পশুর হাটগুলোতে বিপুল অঙ্কের নগদ লেনদেনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জালনোট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশব্যাপী বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সময়টিতে অসাধু চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সুযোগ বুঝে বাজারে জাল মুদ্রা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
প্রতি বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ী পশুর হাট বসে। এসব হাটে কয়েক দিনেই হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়, যার বড় অংশই নগদে। ফলে লেনদেনের চাপ এবং তাড়াহুড়ার মধ্যে অনেকেই নোট যাচাই না করেই গ্রহণ বা প্রদান করেন, যা আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অঙ্কের নোট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
জালনোট শনাক্তের জন্য প্রতিটি আসল নোটে উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজিত থাকে। সচেতনভাবে এসব বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করলে সহজেই আসল ও নকল নোটের পার্থক্য ধরা সম্ভব। নিচে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো—
| নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য | শনাক্ত করার পদ্ধতি |
|---|---|
| জলছাপ | আলোতে ধরলে নোটে থাকা প্রতিকৃতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় |
| নিরাপত্তা সুতা | নোটের ভেতরে উল্লম্বভাবে সংযুক্ত সূতা দেখা যায় |
| রং পরিবর্তনশীল কালি | নোট কাত করলে নির্দিষ্ট অংশের রঙ পরিবর্তিত হয় |
| অসমতল ছাপা | আঙুল দিয়ে স্পর্শ করলে উঁচু-নিচু অনুভূত হয় |
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট লেনদেনের সময় অবশ্যই ভালোভাবে পরীক্ষা করা উচিত। সন্দেহজনক কোনো নোট পাওয়া গেলে তা অবিলম্বে নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা পশুর হাটে স্থাপিত অস্থায়ী ব্যাংক বুথে যাচাইয়ের জন্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ গ্রহণে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। সম্ভব হলে ব্যাংকিং চ্যানেল বা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়লেও পশুর হাটে নগদের চাহিদা এখনো বেশি—তাই ঝুঁকি কমাতে দ্বৈত যাচাই পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জালনোট প্রতিরোধ শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বাজারে জাল মুদ্রার বিস্তার বাড়লে মূল্যস্ফীতি ও আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা—সব মিলিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসল নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা অর্জনের জন্য নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে হাট এলাকায় প্রচারণা, মাইকিং এবং অস্থায়ী সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সচেতনতা ও সতর্কতার সমন্বয়ই পারে ঈদের মৌসুমে জালনোটের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে।
