কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্প নগরীর নির্মাণাধীন প্রধান ফটক ধসে এক রাজমিস্ত্রির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ছয়টার দিকে মাড়িয়া ইউনিয়ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা আরও তিন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিসিক শিল্প নগরীর প্রধান ফটকের নির্মাণকাজে ওইদিন বিকেল থেকেই ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিকের একটি দল নিয়োজিত ছিল। বিকেলের দিকে এলাকায় বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে নির্মাণাধীন কাঠামোর সেন্টারিং দুর্বল হয়ে পড়ে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ফটকের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলাকালীন দুর্বল সেন্টারিংটি অতিরিক্ত লোড সহ্য করতে না পেরে আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার অভিযান জোরদার করে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
হতাহতদের পরিচয়
নিহত এবং আহতদের সবাই পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। তাদের বিস্তারিত পরিচয় নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ খালিদ জানান, খবর পাওয়ার পর তাদের টিম তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেন্টারিং ও সাটারিংয়ের দুর্বলতার বিষয়টি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বৃষ্টির ফলে মাটির নমনীয়তা বৃদ্ধি পাওয়া এবং কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে এই ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণ কাজের গুণগত মান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আহত তিন শ্রমিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।