
মাত্র তিন ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে কুমিল্লা নগরীর স্বাভাবিক চিত্র পাল্টে গেছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলি-গলি, আবাসিক এলাকা, বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। আকস্মিক এই জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় মোট বৃষ্টির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দিনজুড়ে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রবল বৃষ্টির পর নগরীর বিদ্যমান ড্রেন ও নালা দিয়ে দ্রুত পানি সরতে না পারায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিশেষ করে মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, বাগানবাড়ি, দক্ষিণ চর্থা, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশলাইনস, রেসকোর্স, উত্তর রেসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর এবং শহরতলির ছায়া বিতান এলাকায় পানির চাপ ছিল বেশি।
এসব এলাকার অনেক বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। কোথাও কোথাও ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে পথচারীদের চলাচল যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছান।
ভারী বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে অনেক শিক্ষার্থীকে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। কেউ কেউ বৃষ্টিতে ভিজে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছান। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কয়েকজন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে কেন্দ্রে পৌঁছালেও পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার জানান, ওই কেন্দ্রে আটটি কলেজের প্রায় ২ হাজার ১০০ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। ভারী বর্ষণে কেন্দ্রের মাঠে পানি জমলেও পরীক্ষার কক্ষে পানি প্রবেশ করেনি। জলাবদ্ধতার কারণে যেসব শিক্ষার্থী দেরিতে কেন্দ্রে পৌঁছেছেন, তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে।
মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী তাছলিমা আক্তার বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে ও জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে অনেক কষ্ট করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী ভেজা পোশাকেই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ জানান, বোর্ডের অধীন ছয় জেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তবে কোনো পরীক্ষা কক্ষে পানি প্রবেশ করেনি। দেরিতে কেন্দ্রে পৌঁছানো পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নগরীর সালাউদ্দিন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ে। সালাউদ্দিন মোড়ের একটি ওষুধের দোকানের মালিক দিদারুল আলম সুমন বলেন, প্রায় এক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম তার দোকানের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে ওষুধ সংরক্ষণসহ ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
একই এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম জানান, তার বাড়ির নিচতলায় বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। ড্রেন ও নালা দিয়ে ধীরে পানি নামায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা স্থায়ী হচ্ছে। এতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বৃষ্টির পানিতে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালেও সাময়িক ভোগান্তি দেখা দেয়। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের নিচতলা ও জরুরি বিভাগের আশপাশে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, বাইরে থেকে পানি হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করেছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে। বৃষ্টি কমলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে নগরীতে যানবাহনের সংকটও দেখা দেয়। বিশেষ করে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেন যাত্রীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছান।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে পরীক্ষা শুরুর আগেই সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ভারী বর্ষণের কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও পানি নিষ্কাশন বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন।
নগরবাসীর অভিযোগ, কুমিল্লায় ভারী বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় মানুষকে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালার ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে পারে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাময়িকভাবে পানি অপসারণের ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত খাল-নালা পরিষ্কার এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
> ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে নতুন অনলাইন উদ্যোগ
> লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনের সামনে থেকে সরাল পুলিশ
> হাম পরিস্থিতি: একদিনে ৭ মৃত্যু, শনাক্ত ১২২
> সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক
> তিন দফা দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
> নেইমারের ২০৩০ বিশ্বকাপ স্বপ্ন নিয়ে নতুন জল্পনা
> তিন দাবিতে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও
> ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ
> শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে কুড়িগ্রামে পরীক্ষার্থীদের মানববন্ধন
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর
> ডিএনডি লেকে দুই কিশোরের মৃত্যু
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই
> ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য