খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম

একটি জামদানি শাড়িকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পুরোনো এক আইনি বিবাদ নতুন মোড় নিয়েছে। জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রতারণার মামলায় সমন জারি করেছে আদালত। প্রায় ১০ মাস আগে এই শাড়ি বিতর্ক প্রকাশ্যে এলেও মাঝে বিষয়টি কিছুটা ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি আদালতের নতুন এই নির্দেশনার পর পুরোনো সেই বিতর্ক বিনোদন অঙ্গনে আবারও মূল আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
সমন জারির এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তানজিন তিশা, তাঁর পরিবার এবং কাছের মানুষদের মধ্যে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, একটি জামদানি শাড়ি উপহার পাওয়া নিয়ে সাধারণ এক ভুল বোঝাবুঝি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়াবে, তা তাঁরা ভাবতেও পারেননি। অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠজনদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি স্রেফ দুটি পক্ষের মধ্যকার ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বের ফল। তা না হলে উপহার হিসেবে দেওয়া সামান্য একটি শাড়ি নিয়ে একজন সুপরিচিত শিল্পীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়াটা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।
বিনোদন জগতের অনেকে আবার এই ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে ভাবছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই মামলার কারণে ভবিষ্যতে তারকা শিল্পীরা নতুন বা অনলাইন উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কোনো পণ্য উপহার হিসেবে নিতে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন। এটি সামগ্রিকভাবে কুটির শিল্প ও অনলাইন ব্যবসার প্রচারণায় এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে এই ঘটনা একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর জন্য সামাজিক ও পেশাগতভাবে সম্মানহানিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলেও অনেকে মনে করছেন।
গত সপ্তাহে সমন জারির পর বিষয়টি যখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে, তখন থেকেই তিশা আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করেন। তিশার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর আইনজীবীর সাথে বিশদ পরামর্শ করেছেন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনি কাগজপত্র গোছাচ্ছেন।
এদিকে এই সমন জারির পর সম্প্রতি আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তানজিন তিশা। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা মামলার প্রসঙ্গটি তুললে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
“আমি দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আদালত যেহেতু আমাকে ডেকেছে, আমি অবশ্যই নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হব। আমার নিজেরও খুব ইচ্ছা ছিল আমার সাথে আসলে কী ঘটেছে, তা সবাইকে বিস্তারিত খুলে বলি। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু এখন সরাসরি আদালতের বিচারাধীন, তাই আমি প্রকাশ্যে এই নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক বিচার পাব এবং আইনিভাবেই পুরো বিষয়টি মোকাবিলা করব।”
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করে তানজিন তিশা ক্ষোভের সাথে প্রশ্ন তোলেন, ১৪ বছরের পরিচ্ছন্ন ক্যারিয়ারের পর মাত্র ২৭-২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ির জন্য প্রতারণা করার অভিযোগ কতটা যৌক্তিক! তিনি বলেন, “আমি এত বছর দিনরাত পরিশ্রম করে একজন শিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছি। একটি অনলাইন শপের ২৭ হাজার টাকার শাড়ি মেরে দেওয়ার জন্য আমি অভিনয় করতে আসিনি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার ভক্ত ও দর্শকেরা এই সাধারণ বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন।”
পুরো ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল একটি অনলাইন পোশাক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর করা অভিযোগের মাধ্যমে। ওই নারী উদ্যোক্তার দাবি, তানজিন তিশা নিজেই প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে তাঁর পেজের একটি জামদানি শাড়ির প্রতি আগ্রহ দেখান। পরবর্তীতে পেজের প্রচারণার শর্তে শাড়িটি অভিনেত্রীকে স্পনসর হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শাড়ি হাতে পাওয়ার পর তিশা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ছবি বা পোস্ট দিয়ে প্রচারণা করেননি এবং পরবর্তীতে শাড়ির সমমূল্যও পরিশোধ করেননি।
তবে শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তানজিন তিশা। তাঁর সাফ কথা, শাড়িটি তাঁকে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগটি প্রথম যখন অনলাইনে আসে, তখন তিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেছিলেন,
“গিফট নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক! হা হা! আর ফটোশুটই যদি করাতে চান, পারিশ্রমিক কই? আজব নারী উদ্যোক্তা! আপনার গিফটরে সালাম!”
এখন আদালতের সমনের পর এই শাড়ি বিতর্কের আইনি নিষ্পত্তি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে শোবিজ অঙ্গন ও সাধারণ দর্শকদের। আদালত তানজিন তিশাকে আগামী ১৩ আগস্ট সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অভিনেত্রীও জানিয়েছেন, তিনি নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজের নির্দোষিতার প্রমাণ ও অবস্থান তুলে ধরবেন।
মন্তব্য