খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুলাই ২০২৬, ৭:৪১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার দাম এক কোটি মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (আইআরআই)। বর্তমান মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২৩.১২ টাকা হিসাবে) এই বিশাল পুরস্কারের অঙ্ক বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকার সমান। ইরানপন্থী শক্তিশালী এই সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্পকে কেউ হত্যা করতে পারলে পুরস্কার হিসেবে তাঁকে এই বিপুল অর্থ দেওয়া হবে।
সশস্ত্র এই সংগঠনটি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একজন অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, সংগঠনের সাধারণ সদস্য ও সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া বিশেষ অনুদানের অর্থ দিয়ে এই এক কোটি ডলারের তহবিল বা পুরস্কার বরাদ্দ করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোনো গোষ্ঠী যদি এই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করতে পারে, তবে তারা এই পুরস্কার পাবেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে:
“বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ নিরপরাধ শিশু ও বিজ্ঞানীদের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালিয়েই যাবে। স্বৈরাচারীরা কখনো শান্তি পাবে না। বিশ্বজুড়ে মুক্তিকামী মানুষের যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা থেকে ওই অপরাধী (ট্রাম্প) কোনো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না।”
বিবৃতিতে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স আরও উল্লেখ করেছে, তাদের নিহত যোদ্ধাদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া একটি ‘বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার’। শহীদদের এই রক্ত অভিশাপ হয়ে একদিন অহংকারীদের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেবে; যতক্ষণ না আগ্রাসনকারীরা পুরোপুরি পরাজিত হয় এবং স্বৈরাচারের শক্ত দুর্গগুলো ধসে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই উত্তেজনার পেছনের মূল কারণটি প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনার একপর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন যে, ২০২০ সালে ইরাকের মাটিতে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে হত্যার পেছনে তাঁর সরাসরি ভূমিকা ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য ও অকপট স্বীকারোক্তিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নেয়নি ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। মূলত এই ঘটনার পরই চরম ক্ষুব্ধ হয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মাথার ওপর এই আকাশচুম্বী পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হলো। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য