আটক না হওয়া আসামিদের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা দৌলতপুরে উত্তেজনা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিত আব্দুর রহমান ওরফে শামীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের দুই দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসামি প্রকাশ্যেই এলাকায় চলাফেরা করছেন এবং সামাজিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে মামলার ২ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ থাকা উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে নিজ এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হোসেনাবাদ বাজার–ফিলিপনগর সড়কে একটি কালো মোটরসাইকেলে তার চলাচলের দৃশ্য স্থানীয় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ খাজা আহম্মেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। স্থানীয় সূত্র বলছে, তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রাজনৈতিক কর্মসূচি সংক্রান্ত ব্যানার ও সমাবেশের পোস্ট শেয়ার করছেন, যা নিয়ে এলাকায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, একটি হত্যাকাণ্ডের পরও কীভাবে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে অবস্থান করতে পারছেন এবং প্রশাসন কেন এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত অগ্রসর হচ্ছে এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রায় ২৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আরও জানান, আসামিদের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার বিষয়টি পুলিশও অবগত। যেকোনো সময় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবিতে এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহত আব্দুর রহমানের ভক্ত ও স্থানীয় বাসিন্দারা মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, তদন্তে ধীরগতি ও দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাবে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শনিবার, যখন আব্দুর রহমান ওরফে শামীমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার রাতে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক আসামি থাকায় তদন্ত কার্যক্রম জটিল আকার ধারণ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিচে মামলার বর্তমান অবস্থার সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

বিষয়বিবরণ
ঘটনার তারিখগত শনিবার
মামলা দায়েরসোমবার রাত
মামলার বাদীফজলুর রহমান (নিহতের ভাই)
নামীয় আসামি৪ জন
অজ্ঞাত আসামিপ্রায় ১৮০–২০০ জন
শনাক্ত সন্দেহভাজনপ্রায় ২৫ জন
গ্রেপ্তার অবস্থাএখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি
তদন্ত সংস্থাদৌলতপুর থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশ

স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সব মিলিয়ে, দৌলতপুরের এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে আ