খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুলাই ২০২৬, ৫:১৪ পিএম

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সোমবার দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের নতুন এই বাসিন্দার হাত ধরে সরকারে কারা আসছেন এবং কার ঘাড়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পড়ছে, তা নিয়ে এখন লন্ডনের রাজনৈতিক অলিন্দে জোর জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
অবশ্য অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নিজে জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম নিয়ে এখনো তিনি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। আগাম মন্ত্রিসভা ঘোষণা না করার পেছনে যুক্তিসঙ্গত কারণও দেখিয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এই সাবেক মেয়র। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই যদি মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন কিংবা রদবদলের কাজ শুরু করা হয়, তবে তা কিছুটা সময়ের আগেই করা হয়ে যাবে। তিনি মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বার্নহ্যাম কৌশলগত কারণে মুখ না খুললেও ভেতরের খবর জানার চেষ্টা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ধারণা করা হচ্ছে, র্যাচেল রিভসের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর বা অর্থমন্ত্রী পদের দৌড়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড ও শাবানা মাহমুদ।
দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর দেওয়া প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তাঁর সরকারের মূল এজেন্ডা বা রূপরেখা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। দেশের ভঙ্গুর সমাজসেবা (সোশ্যাল কেয়ার) ব্যবস্থার আমূল সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
তবে বার্নহ্যামের এই মসনদে বসার প্রক্রিয়াকে সহজভাবে নিচ্ছেন না বিরোধীরা। যুক্তরাজ্যের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জনগণের কোনো সরাসরি গণরায় বা ম্যান্ডেট ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসছেন। দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের জন্য তিনি ভাবি প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে একটি সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা এডওয়ার্ড ডেভি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজনীতির মাঠে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ডেভি বলেন, আলোচনা ও সহযোগিতার জন্য তাঁর দরজা সবসময় খোলা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা বিশেষ করে পানি খাতের সংস্কার, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) খাতের আধুনিকায়ন এবং সমাজসেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে চায়। বিশেষ করে, পরিবারে যাঁরা অসুস্থ স্বজনদের দিনরাত সেবাযত্ন করেন, সেই ফ্যামিলি কেয়ারারদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন তিনি।
অ্যান্ডি বার্নহ্যামের এই শীর্ষ পদে উঠে আসার পথটি তৈরি হয়েছে বেশ নাটকীয়ভাবে। মাত্র এক মাস আগে একটি উপনির্বাচনে বিপুল ভোট পেয়ে আবারও পার্লামেন্টে ফিরে আসেন তিনি। এরপর চলতি সপ্তাহের শুরুতে লেবার পার্টির ৩৭৯ জন পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) এবং দলটির সঙ্গে যুক্ত থাকা ১১টি প্রভাবশালী ট্রেড ইউনিয়নের একচেটিয়া সমর্থন লাভ করেন। ফলে দলীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজের অবস্থানকে প্রশ্নাতীতভাবে শক্তিশালী করে তোলেন।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সোমবার যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। স্টারমারের বিদায়ের পর প্রথা অনুযায়ী রাজা চার্লস লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে নতুন সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।
বার্নহ্যাম সেই রাজকীয় আমন্ত্রণ গ্রহণ করার পর সোমবারই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেবেন। ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবারের মধ্যেই মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বার্নহ্যাম বলেন:
“আমি এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছি। খুব শিগগির শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছাব এবং সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তা সবার সামনে ঘোষণা করব।”
এখন দেখার বিষয়, লেবার পার্টির ভেতরে সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করে তিনি দেশের জন্য কেমন মন্ত্রিসভা উপহার দেন।
মন্তব্য