শেষ ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জিতল পাকিস্তান

লাহোরের পিচে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ তথা চূড়ান্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে সফরকারী অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক পাকিস্তান। বোলারদের আধিপত্যের এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করা অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে তীব্র ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান দল। দলীয় ১১২ রানেই শীর্ষ ৬ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল তারা। তবে অলরাউন্ডার শাদাব খানের অনবদ্য ২৯ রান এবং সপ্তম উইকেটে আবদুল সামাদের সাথে তাঁর দায়িত্বশীল জুটির ওপর ভর করে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের মাধ্যমে ৩ ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিল পাকিস্তান দল।

ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং সহায়ক উইকেটে মাত্র ১৫৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও পাকিস্তানকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এই রান তুলতে তাদের খেলতে হয়েছে ৪১.৫ ওভার। দলীয় ২৭ রানে প্রথম ব্যাটসম্যান সাহিবজাদা ফারহান আউট হওয়ার পর থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। দলের পক্ষে ওপেনিং ও মধ্যভাগে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন বাবর আজম। বাবর আজমের বিদায়ের পর শাদাব খানের সাথে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আবদুল সামাদ, যিনি শেষ পর্যন্ত ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। সপ্তম উইকেটে এই দুই অবিজিত ব্যাটসম্যান দলের স্কোরবোর্ডে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ৪৯ রান যোগ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

শেষ ওয়ানডে ম্যাচের উভয় দলের ব্যাটিং ও বোলিং পরিসংখ্যান

পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচের মূল পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যান নিচে ছকের সাহায্যে উপস্থাপন করা হলো:

দলের নামব্যাটিং পারফরম্যান্স (সর্বোচ্চ রান)বোলিং পারফরম্যান্স (সফলতম বোলার)ইনিংসের মোট ফলাফল
অস্ট্রেলিয়া

জশ ইংলিস (৬৫ রান)


মারনাস লাবুশেন (১৯ রান)


অ্যালেক্স ক্যারি (১৯ রান)

বোলিং উইকেটের তথ্য মূল সংবাদে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

১৫৭ রানে অলআউট


(প্রথম ইনিংস)

پاکستان

বাবর আজম (৪০ রান)


শাদাব খান (২৯ রান)


আবদুল সামাদ (১৮ রান – অপরাজিত)

শাহিন আফ্রিদি (৩টি উইকেট)


আবরার আহমেদ (২টি উইকেট)


শাদাব খান (২টি উইকেট)

১৫৮/৬ উইকেট


(৪১.৫ ওভার, দ্বিতীয় ইনিংস)

এর আগে ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জশ ইংলিস। তবে পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় রানে গুটিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব দেখান পাকিস্তানের বোলাররা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই কোনো রান করার আগেই ওপেনার ম্যাথু শর্টকে সাজঘরে ফেরত পাঠান পাকিস্তানি বোলার শাহিন আফ্রিদি। শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক জশ ইংলিস ও মারনাস লাবুশেন। তাঁরা দুজনে স্কোরবোর্ডে ৪৬ রান যোগ করার পর ব্যক্তিগত ১৯ রানে রানআউট হয়ে বিদায় নেন লাবুশেন।

লাবুশেনের আউটের পর ক্রিজে আসেন অ্যালেক্স ক্যারি। ক্যারির সাথে জুটি বেঁধে অধিনায়ক জশ ইংলিস দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যান এবং তৃতীয় উইকেটে ৫-২ রানের জুটি গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৯৮ রান। কিন্তু এরপরই পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে চরম ব্যাটিং ধসের শিকার হয়ে মাত্র ১৩৭ রানেই ৮টি উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। মূলত দলীয় ১১৯ রানে অধিনায়ক জশ ইংলিস ব্যক্তিগত ৬৫ রানে শাহিন আফ্রিদির বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে অস্ট্রেলিয়ার সম্মানজনক স্কোর গড়ার আশা শেষ হয়ে যায়। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন লাবুশেন ও ক্যারি। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সফলতম শাহিন আফ্রিদি নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া আবরার আহমেদ ও শাদাব খান প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে ১৫৭ রানে বেঁধে রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।