Table of Contents
আর্জেন্টিনা (ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন)
শক্তি: লিওনেল মেসির নেতৃত্বে বিশ্বজয়ী অভিজ্ঞ এবং তারুণ্যের এক দারুণ মিশ্রণ রয়েছে এই দলে। আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের ফর্মে থাকা এবং মাঝমাঠে ডি পল, ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেসের রসায়ন এই দলটির মূল চালিকাশক্তি। গোলপোস্টে এমি মার্তিনেজ বরাবরের মতোই বড় ভরসা।
দুর্বলতা: রক্ষণভাগে নিকোলাস ওতামেন্দির বয়স এবং গতি কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে, যদিও রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজ তা পুষিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
ব্রাজিল
শক্তি: আক্রমণভাগে ভিনিসিউস জুনিয়র, রাফিনিয়া, রদ্রিগো এবং বিস্ময়বালক এন্দ্রিকের উপস্থিতি যেকোনো রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। মাঝমাঠে কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা এবং গিমারায়েসের গতিশীলতা দলটিকে ভারসাম্য দিয়েছে। আলিসন ও এদেরসনের কারণে গোলরক্ষক পজিশনে তারা বিশ্বের সেরা।
দুর্বলতা: নেইমার জুনিয়রের চোট-পরবর্তী ফর্ম এবং রক্ষণভাগের ফুল-ব্যাক (পার্শ্বীয় রক্ষণভাগ) পজিশনে কিছুটা ধারাবাহিকতার অভাব ভোগাতে পারে দলটিকে।
ফ্রান্স
শক্তি: কিলিয়ান এমবাপ্পের গতি ও স্কিল এবং তার সাথে ওলিসে, বার্কোলা ও ডেম্বেলেকে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ টুর্নামেন্টের অন্যতম বিধ্বংসী। মাঝমাঠে শুয়ামেনি ও কন্তের মতো ওয়ার্কহর্স এবং রক্ষণভাগে সালিবা ও উপামেকানোর মতো বিশ্বসেরা ডিফেন্ডাররা আছেন।
দুর্বলতা: আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের মতো অভিজ্ঞ প্লে-মেকারের অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে বল জোগান দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে তরুণদের ওপর।
ইংল্যান্ড
শক্তি: হ্যারি কেইনের গোল স্কোরিং ক্ষমতা এবং জুড বেলিংহাম ও বুকায়ো সাকার মতো বিশ্বমানের তরুণ মিডফিল্ডার/ফরোয়ার্ডদের উপস্থিতি ইংল্যান্ডকে ট্রফির অন্যতম দাবিদার করেছে। রাইস ও মাইনু মাঝমাঠকে দারুণ সুরক্ষা দেবেন।
দুর্বলতা: রক্ষণভাগে স্টোনস ছাড়া বাকিদের আন্তর্জাতিক স্তরে বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতার অভাব এবং লেফট-ব্যাক পজিশনে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে।
২. ডার্ক হর্স বা চমক দেখাতে পারে যারা
পর্তুগাল
স্কোয়াড গভীরতা: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপে ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেও এবং জোয়াও ফেলিক্সের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া পর্তুগাল দল খাতা-কলমে অত্যন্ত শক্তিশালী। রুবেন দিয়াসের নেতৃত্বে তাদের রক্ষণভাগও বেশ নিরেট।
স্পেন
তারুণ্যের শক্তি: ইউরো জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসা স্পেনের মূল শক্তি লামিনে ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামসের উইং ধরে আক্রমণ। মাঝমাঠে রদ্রি (বিশ্বের সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের একজন) এবং পেদ্রি-গাভির উপস্থিতি তাদের বল পজিশন ধরে রাখার ঐতিহ্যকে ধরে রাখবে।
জার্মানি
পুনরুত্থান: জামাল মুসিয়ালা এবং ফ্লোরিয়ান ভির্টজের মতো দুই প্রতিভাবান আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের ওপর ভর করে জার্মানি এবার নিজেদের পুরোনো গৌরব ফিরে পেতে মরিয়া। কাই হাভার্টজ এবং সানের অভিজ্ঞতা তাদের প্লাস পয়েন্ট।
বেলজিয়াম
নতুন প্রজন্ম: কেভিন ডি ব্রুইনে এবং রোমেলু লুকাকুর অভিজ্ঞতার সাথে জেরেমি ডোকু এবং লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের গতি বেলজিয়ামকে যেকোনো দলের জন্য বিপজ্জনক করে তুলেছে।
৩. লাতিন ও ইউরোপীয় অন্য দলগুলোর অবস্থান
উরুগুয়ে: ফেদেরিকো ভালভার্দে ও রদ্রিগো বেন্টানকুরের শক্তিশালী মাঝমাঠ এবং ডার্ক উইন নুনিয়েজের আক্রমণভাগ নিয়ে উরুগুয়ে প্রথাগতভাবেই একটি কঠিন প্রতিপক্ষ।
নেদারল্যান্ডস: ভার্জিল ভ্যান ডাইক, নাথান আক এবং মিকি ভ্যান ডে ভেনের উপস্থিতিতে তাদের রক্ষণভাগ টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। তবে আক্রমণভাগে মেমফিস ডিপাই বা গাকপোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেখা যেতে পারে।
ক্রোয়েশিয়া: লুকা মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপে মাতেও কোভাচিচ ও গাভার্দিওলকে নিয়ে ক্রোয়েশিয়া তাদের লড়াকু মানসিকতার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইবে।
অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড: আলাবা (অস্ট্রিয়া) এবং আকাঞ্জি-জাকা (সুইজারল্যান্ড) এর মতো অভিজ্ঞ তারকাদের নিয়ে এই দলগুলো বড় দলগুলোর পয়েন্ট কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
৪. এশিয়ান ও আফ্রিকান শক্তিদের স্কোয়াড গভীরতা
এশিয়া (AFC)
জাপান: এন্ডো, কুবো, কামাদা এবং মায়েদার মতো ইউরোপে খেলা ফুটবলারদের নিয়ে জাপান দলগত সংহতিতে সেরা।
দক্ষিণ কোরিয়া: সন হিউং-মিন এবং কিম মিন-জের (ডিফেন্ডার) ওপর ভিত্তি করে তারা নক-আউট পর্বে যাওয়ার মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করবে।
সৌদি আরব ও কাতার: সম্পূর্ণ ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড়দের আধিক্য থাকলেও কাতার (আকরাম আফিফ) এবং সৌদি আরব (সালেম আল দাওসারি) তাদের চেনা কন্ডিশন ও দলীয় বোঝাপড়ার সুবিধা পাবে।
ইরান ও ইরাক: তারেমি এবং আজমুনের ইরান এবং আইমেন হুসেইনের ইরাক শারীরিক ফুটবল দিয়ে প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে পারে।
আফ্রিকা (CAF)
মরক্কো: গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা এবারও আশরাফ হাকিমি, হাকিম জিয়েশ (যদি খেলেন) এবং ব্রাহিম দিয়াজের (রিয়াল মাদ্রিদ তারকা, যিনি মরক্কোকে বেছে নিয়েছেন) অন্তর্ভুক্তিতে অত্যন্ত শক্তিশালী।
সেনেগাল: সাদিও মানে, কালিদু কুলিবালি এবং নিকোলাস জ্যাকসনকে নিয়ে সেনেগাল আফ্রিকার অন্যতম সেরা বাজি।
মিশর: মোহাম্মদ সালাহ এবং ওমর মারমুশের ফর্মে থাকা মিশরকে যেকোনো দলের জন্য আতঙ্কের কারণ করে তুলেছে।
আলজেরিয়া ও আইভরি কোস্ট: রিয়াদ মাহরেজের আলজেরিয়া এবং ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে-ফোফানার আইভরি কোস্টের স্কোয়াডে চমৎকার ব্যালেন্স রয়েছে।
৫. উত্তর আমেরিকা ও অন্যান্য উদীয়মান দল
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা (আয়োজক): ঘরের মাঠের সুবিধা পাবে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক, ম্যাককেনি এবং কানাডার আলফনসো ডেভিস ও জনাথন ডেভিডের মতো তারকারা নিজ দেশে ফুটবল বিপ্লব ঘটাতে প্রস্তুত।
মেক্সিকো: ওচোয়ার অভিজ্ঞতা এবং সান্তিয়াগো হিমেনেসের গোল করার ক্ষমতা মেক্সিকোকে ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষে রূপান্তর করেছে।
সামারি টেবিল: স্কোয়াডের শক্তিমত্তা এক নজরে (শীর্ষ ১০)
| দেশের নাম | মূল তারকা খেলোয়াড় | স্কোয়াডের প্রধান শক্তি | সম্ভাব্য ফর্মেশন/স্টাইল |
| আর্জেন্টিনা | লিওনেল মেসি | মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণভাগ | ৪-৩-৩ (পজিশনাল) |
| ব্রাজিল | ভিনিসিউস জুনিয়র | উইংয়ের গতি ও গোলকিপিং | ৪-২-৩-১ (আক্রমণাত্মক) |
| ফ্রান্স | কিলিয়ান এমবাপ্পে | গভীর স্কোয়াড ও প্রতি-আক্রমণ | ৪-৩-৩ (ডাইরেক্ট ফুটবল) |
| ইংল্যান্ড | জুড বেলিংহাম | তরুণ প্রতিভানির্ভর মাঝমাঠ | ৪-২-৩-১ (ভারসাম্যপূর্ণ) |
| স্পেন | রদ্রি, লামিনে ইয়ামাল | পাসিং ফুটবল ও উইঙ্গারদের গতি | ৪-৩-৩ (টিকি-টাকা) |
| পর্তুগাল | ব্রুনো ফার্নান্দেস | স্কোয়াডের গভীরতা ও অভিজ্ঞতা | ৪-৩-৩ (ফ্লেক্সিবল) |
| জার্মানি | জামাল মুসিয়ালা | আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড | ৪-২-৩-১ (হাই-প্রেসিং) |
| উরুগুয়ে | ফেদেরিকো ভালভার্দে | কাউন্টার-অ্যাটাক ও শারীরিক ফুটবল | ৪-৩-৩ (আগ্রেসিভ) |
| মরক্কো | আচরাফ হাকিমি | নিরেট রক্ষণ ও দলীয় সংহতি | ৪-১-৪-১ (ডিফেন্সিভ) |
| নেদারল্যান্ডস | ভার্জিল ভ্যান ডাইক | বিশ্বসেরা সেন্ট্রাল ডিফেন্স | ৩-৫-২ (ডাইনামিক) |
৪৮ দলের এই নতুন ফরম্যাটে স্কোয়াডের গভীরতা (Depth) সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে। যে দলগুলোর সাইড বেঞ্চ বা বদলি খেলোয়াড়রা শক্তিশালী (যেমন: ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল), দীর্ঘ টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের চোট ও ক্লান্তি কাটিয়ে তারাই শেষ পর্যন্ত ট্রফি জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে।
