জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধস: গাছ কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের খেসারত দিতে হলো আরও একটি তাজা প্রাণকে। রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় আকস্মিক পাহাড়ধসের ঘটনায় লক্ষ্মী বিলাস চাকমা (৭০) নামের এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে বাঘাইছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পশ্চিম লাইল্যাঘোনা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত প্রবীণ ব্যক্তি ওই এলাকার মৃত ধরনাচাষ্য চাকমার ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, লক্ষ্মী বিলাস চাকমার ঘরটি পাহাড়ের ঢাল ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছিল। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটির স্তর আগে থেকেই বেশ নরম ও বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। আজ সকালে তিনি ঘরের পাশে একটি গাছ কাটার কাজ করছিলেন। গাছ কাটার একপর্যায়ে ওপরের পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ আচমকা ধসে তার ওপর পতিত হয়। বিপুল পরিমাণ মাটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিকট শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং মাটি সরিয়ে তার মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

বর্ষায় পার্বত্য অঞ্চলের চিরচেনা আতঙ্ক

পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বর্ষা মৌসুম এলেই পাহাড়ধস একটি নিয়মিত এবং ভয়াবহ দুর্যোগে রূপ নেয়। বিশেষ করে বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম ও পৌর এলাকায় বহু পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের নিচে বা ঢালু অংশে বসবাস করছে। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা, গাছ নিধন এবং মাটির গুণগত পরিবর্তন এই ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে তুলছে। বর্ষার ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে প্রশাসন থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও, স্থায়ী পুনর্বাসনের অভাব এবং অসচেতনতার কারণে স্থানীয় মানুষ ঝুঁকি নিয়েই সেখানে অবস্থান করেন।

কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও নির্দেশনা

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান গণমাধ্যমকে বলেন, “পাহাড়ধসে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই আমি দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি।”

তিনি আরও জানান যে, এই মুহূর্তে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত অন্যান্য পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। নতুন করে যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সেজন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের অবিলম্বে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিধিদের এ বিষয়ে তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর