খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ১০:৮ এএম

নেইমার জুনিয়রের পর এবার চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চকে বিদায় জানালেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। আর এই পরাজয়ের সঙ্গেই পর্তুগিজ যুবরাজের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে বিশ্বজয়ের সোনালী স্বপ্নটি চিরতরে ভেঙে গেল।
ম্যাচজুড়েই ছিল টানটান উত্তেজনা, আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণের রোমাঞ্চ। মাঠের লড়াইয়ে দুই দলই কেউ কাউকে একচুল ছাড় দিতে রাজি ছিল না। তবে স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ আর মধ্যমাঠের নিখুঁত পাসিং ফুটবলের কৌশলের কাছে শেষ পর্যন্ত ভাঙেনি পর্তুগালের ডেডলক। ম্যাচের একমাত্র গোলটিই পর্তুগালকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয় এবং স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডরা বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও স্প্যানিশ গোলরক্ষকের অসাধারণ কিছু সেভের কারণে গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয় তারা।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠজুড়ে হাহাকার নেমে আসে পর্তুগাল শিবিরে। ৪১ বছর বয়সী ফুটবল কিংবদন্তি রোনালদো আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ড্রেসিংরুমের টানেলে যাওয়ার পথে ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার কান্নাভেজা মুখ। দুই হাত দিয়ে চোখ মুছে মাঠ ছাড়ার সেই দৃশ্য মুহূর্তেই কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয়কে নাড়া দেয়।
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগালের ফুটবলকে একা হাতে টেনেছেন সিআর সেভেন (CR7)। ২০১৬ সালে দেশকে অধরা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জেতানো কিংবা ২০১৯ সালের নেশনস লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরা—সবখানেই ছিল তার অবদান। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি নিজের দখলে রাখলেও, ফুটবল ইতিহাসের এই মহানায়কের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একটি বিশ্বকাপ ট্রফি শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম এই মহাতারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি এমন এক ট্র্যাজিক হারের মাধ্যমে ঘটবে, তা হয়তো কোনো ফুটবল অনুরাগী কল্পনাও করেননি। ট্রফি বা মেডেল দিয়ে হয়তো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব পুরোপুরি মাপা যাবে না, তবে বিশ্বমঞ্চে তার এই অশ্রুসিক্ত বিদায় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অন্যতম এক বেদনাবিধুর ও আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে চিরকাল অমর থাকবে।
যেহেতু সংবাদে প্রচুর পরিসংখ্যান বা ১০টির বেশি পৃথক ডেটা পয়েন্টের আলাদা তালিকা নেই, তাই নিচে রোনালদোর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সামগ্রিক অর্জনের একটি বিবরণী দেওয়া হলো, যা তার অনন্য কীর্তিকে ফুটিয়ে তোলে:
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক: ২০০৩ সাল (কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে মাত্র ১৮ বছর বয়সে)।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: সর্বমোট ৫টি বিশ্বকাপে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ এর এই আসর) অংশ নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক গোল: পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার অনন্য রেকর্ড।
প্রধান আন্তর্জাতিক ট্রফি: ২০১৬ উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ উয়েফা নেশনস লিগ।
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মান: ৫ বার ফুটবল বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর জয়।
রোনালদোর এই বিদায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের একটি সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল। বিশ্বমঞ্চে বিশ্বকাপ ট্রফি না পেলেও, ফুটবল মাঠে তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স এবং লড়াকু মানসিকতা আগামী প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য আজীবন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মন্তব্য