যাত্রাবাড়ীতে অস্ত্রসহ পাঁচ ডাকাত আটক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরকসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, গুলি, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও ডাকাতির কাজে ব্যবহার করে আসছিল।

মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জ এলাকার শহীদ ফারুক সড়কে একটি আসবাবপত্রের দোকানের সামনে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই সংঘবদ্ধ ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে ডাকাতি ও অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল। সীমান্তবর্তী যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন উৎস থেকে অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তারা সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনাতেও সক্রিয় ছিল।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় বড় ধরনের নাশকতা বা সহিংস অপরাধের পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত আরও গভীরভাবে করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক থানায় ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার তথ্য রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির অন্য সদস্যদের অবস্থান ও কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিচে গ্রেপ্তারদের পরিচয় ও জব্দকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—

নামবয়সভূমিকা (প্রাথমিক ধারণা)
মো. লিটন জব্বার৫২ বছরচক্রের অন্যতম সদস্য
ইসমাইল হোসেন মামুন৫৫ বছরঅস্ত্র সরবরাহকারী
মো. বাবুল বাবু৪৫ বছরলজিস্টিক সহায়তাকারী
আইয়ুব ভূঁইয়া৩০ বছরমাঠপর্যায়ের সদস্য
মো. রোমান৩৫ বছরসক্রিয় অংশগ্রহণকারী

অভিযানে জব্দকৃত সামগ্রী—

জব্দকৃত বস্তুপরিমাণ
পিস্তল২টি
ম্যাগাজিন২টি
গুলি৭টি
বিস্ফোরকপ্রায় ২ কেজি ২০০ গ্রাম
চাপাতি১টি
মোটরসাইকেল২টি

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। রাজধানীতে সক্রিয় এসব গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে এনে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত শেষে পুরো চক্রের সম্পৃক্ততা ও তাদের অপরাধ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।