ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং সব বর্ষের ক্লাস ও পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও বিস্তারিত তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নজরুল আলম খান একাধিক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এক সপ্তাহের জন্য ছাত্রাবাস বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সকল বর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম, অর্থাৎ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার। ওই দিন একদল শিক্ষার্থী একটি দোকানে বসে চা পান করার সময় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। শুরুতে বিষয়টি মৌখিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনার খবর দ্রুত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।
সংঘর্ষে আহত দুই শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মীর হামিদুল এবং মু. মুয়াজ নামের দুই শিক্ষার্থী চিকিৎসা গ্রহণ করেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সংঘর্ষের স্থান | ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ এলাকা |
| ঘটনার তারিখ | শুক্রবার |
| মূল কারণ | ফেসবুক পোস্ট নিয়ে কথাকাটাকাটি |
| পক্ষ | দুই শিক্ষার্থী গ্রুপ |
| আহত শিক্ষার্থী | মীর হামিদুল, মু. মুয়াজ |
| গুরুতর আহত | একজন (ঢাকায় স্থানান্তর) |
| প্রশাসনিক ব্যবস্থা | ছাত্রাবাস বন্ধ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত |
| তদন্ত কমিটি | তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি |
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি ঘটনাটির বিস্তারিত কারণ, দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ দেবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
