মুহুরীগঞ্জে ডাম্পট্রাক দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত

ফেনীর মুহুরীগঞ্জ এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাম্পট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে, প্রায় সাড়ে ছয়টার কিছু আগে সুলতানা ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়।

নিহত দুই তরুণ হলেন ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পাটোয়ারী বাড়ির কামরুল ইসলাম রসুলের ছেলে জিহানুল ইসলাম শাওন (২০) এবং সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের সমপুর গ্রামের ডাক্তার বাড়ির আবু তৈয়বের ছেলে ইকবাল হোসেন জিসান (২৩)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দুই বন্ধু সহ কয়েকজন তরুণ বুধবার রাতে ফেনীর গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যান। তারা সেখানে সময় কাটিয়ে রাতযাপন করেন। পরদিন ভোরের দিকে একসঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। একই মোটরসাইকেলে শাওন ও জিসান ফিরছিলেন। ভোর সোয়া ছয়টার দিকে মুহুরীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি ডাম্পট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে চাপা দেয়।

দুর্ঘটনার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই ইকবাল হোসেন জিসান নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় শাওনকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

নিহত শাওনের ফুফাতো ভাই এক সাংবাদিক জানান, সবাই একসঙ্গে ভ্রমণে গিয়েছিল এবং ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর ডাম্পট্রাকটি দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। তবে ট্রাকটি শনাক্ত বা আটক করা গেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, মহাসড়কের এই অংশে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে ভোর ও রাতের সময়ে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়রা দ্রুত গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বারবার ঘটতে পারে।

নিহত দুই বন্ধুর পরিচিতি সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো—

নামবয়সঠিকানাপরিচয়মৃত্যুর স্থান
জিহানুল ইসলাম শাওন২০ বছরকালিদহ ইউনিয়ন, ফেনী সদরশিক্ষার্থী ও তরুণচট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ইকবাল হোসেন জিসান২৩ বছরমঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন, সোনাগাজীতরুণঘটনাস্থল

এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণহীন গতি, দুর্বল নজরদারি এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।