মাদরাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় শিক্ষক গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবু রাহাত (২২) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আবু রাহাত ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার অর্জুনখিলা গ্রামের আবুল হাশিমের ছেলে। তিনি তারাকান্দা ইউনিয়নের ধলীরকান্দা মাঠখলা এলাকায় অবস্থিত রওজাতুল আতফাল নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা ও জান্নাতুল মোবাশ্বিরা মহিলা মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বাড়ি যেতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় শিক্ষার্থীকে মাদরাসায় রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন শিক্ষক আবু রাহাত। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং পরে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছুটি শেষে বাড়িতে ফেরার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। গত রোববার সকালে তার পায়ুপথে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে চান। তখন সে তাদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। এরপর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ঘটনার খবর জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় গ্রামবাসী সংশ্লিষ্ট মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল গফুরকে আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু রাহাতকে গ্রেপ্তার করে।

সোমবার (১ জুন) সকালে ভুক্তভোগীর মা তারাকান্দা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আবু রাহাতকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলা গ্রহণের পর আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়তথ্য
ঘটনামাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ
স্থানতারাকান্দা উপজেলা, ময়মনসিংহ
অভিযুক্তআবু রাহাত (২২)
পিতাআবুল হাশিম
বাড়িঅর্জুনখিলা গ্রাম, ফুলপুর উপজেলা
পেশামাদরাসা শিক্ষক
মামলা দায়ের১ জুন, ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে
গ্রেপ্তাররোববার দিবাগত রাতে
বর্তমান অবস্থাআদালতে পাঠানো হয়েছে, তদন্ত চলছে

তারাকান্দা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সকল দিক যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।