খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ৭:৩৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা ৬৫টি কচ্ছপ জব্দের পর সালদা নদীতে অবমুক্ত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। পরে দেশের প্রচলিত আইন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণসংক্রান্ত বিধিমালা অনুসরণ করে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সেগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সালদানদী বিওপির একটি টহল দল কসবা উপজেলার শহীদ মিনার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সেখানে সন্দেহজনক অবস্থায় রাখা কচ্ছপগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা কচ্ছপগুলো ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জব্দ করা ৬৫টি কচ্ছপের মধ্যে চারটি বড় আকারের পেপসেল টারটেল এবং ৬১টি ছোট আকারের সন্দি কাসিম প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে। এসব কচ্ছপ কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোথায় পাচার করা হচ্ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্তবর্তী এলাকাকে ব্যবহার করে বন্যপ্রাণী পাচারের সম্ভাবনা থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জব্দের পর কচ্ছপগুলোকে দীর্ঘ সময় আটক রাখা হয়নি। দেশের প্রচলিত আইন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিজিবির উপস্থিতিতে উদ্ধার করা প্রাণীগুলো সালদা নদীতে অবমুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে কচ্ছপগুলোকে তাদের উপযোগী প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অবমুক্তকরণ কার্যক্রমে সালদা নদী কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. মাসুদ, সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজেহার ইসলাম চৌধুরী, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত কর্মকর্তারা বলেন, বন্যপ্রাণী শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের অংশ নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এসব প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ, পরিবহন ও পাচারের ফলে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বন্যপ্রাণী পাচার প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুশইন, নারী ও শিশু পাচার, মাদক এবং বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত কাজ করছে। একই সঙ্গে বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণীসহ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণেও বাহিনীটি অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় বন্যপ্রাণী পাচার ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। ভবিষ্যতেও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী রক্ষায় বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বন্যপ্রাণী পাচারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে দ্রুত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য