প্রধান বিচারপতি বাসভবনের আশপাশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সকল ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা এবং গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, এনডিসি স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন, বিচারপতি ভবন এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারের আশেপাশে সকল প্রকার গণজমায়েত ও আন্দোলন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ এলাকা এবং প্রকারভেদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

এলাকা/স্থাপনানিষিদ্ধ কার্যক্রমের ধরন
প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবনসভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট
বিচারপতি ভবন ও জাজেস কমপ্লেক্সএকই কার্যক্রম
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট প্রধান গেট ও মাজার গেটএকই কার্যক্রম
জামে মসজিদ গেটএকই কার্যক্রম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ১ ও ২ প্রবেশদ্বারএকই কার্যক্রম
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের সম্মুখ এলাকাএকই কার্যক্রম

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায় বা প্রতিবাদ কর্মসূচির নামে সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হয়ে চলাচল নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬) এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ডিএমপি প্রধান জনগণকে সতর্ক করেছেন যে, নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে যে কোনো সভা বা মিছিলকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রীম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি এটি শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় চলাচল ও যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।

ডিএমপি সূত্র জানাচ্ছে, “নিষিদ্ধ এলাকার তালিকা সম্পর্কে সর্বসাধারণ সচেতন থাকলে কোনো ধরনের অসুবিধা এড়ানো সম্ভব হবে।” শহরবাসীর জন্যও জরুরি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, উল্লিখিত এলাকা অতিক্রম করার সময় সবাইকে সতর্ক ও আইন-শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং শহরের যানজট কমানো—দুইই লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে।