ব্যাংকে না গিয়েই ই-ঋণ চালু

বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনলাইনভিত্তিক ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন থেকে ব্যাংকে সরাসরি না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ঋণের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণসহ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। ফলে আর্থিক সেবায় গতি, স্বচ্ছতা ও সহজলভ্যতা বাড়বে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করতে ই-ঋণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ নিতে পারবেন। এই ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১২ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণের সুদের হার বাজারভিত্তিক হলেও পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রযোজ্য হলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদ হার হবে ৯ শতাংশ।

ঋণ প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ আবেদন, যাচাই, অনুমোদন, অর্থ বিতরণ এবং কিস্তি পরিশোধ সবকিছুই অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদনের আগে ঋণ তথ্য ব্যুরোর প্রতিবেদন যাচাই করতে হবে। তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ই-ঋণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সুদ, সার্ভিস চার্জ, বিলম্ব ফি কিংবা আগাম পরিশোধ ফি সম্পর্কে গ্রাহককে পূর্বেই পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।

ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে দুই স্তরের যাচাইকরণ, বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ব্যাংককে ই-ঋণ চালুর আগে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করেই এ সেবা চালু করতে হবে।

নিচে ই-ঋণ সেবার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়বিবরণ
ঋণের সর্বোচ্চ সীমা৫০ হাজার টাকা
ঋণের মেয়াদসর্বোচ্চ ১২ মাস
সুদের হারবাজারভিত্তিক, সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ (পুনঃঅর্থায়ন সুবিধায়)
আবেদন পদ্ধতিমোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট
তথ্য যাচাইজাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক, ঋণ ব্যুরো
নিরাপত্তা ব্যবস্থাদুই স্তরের যাচাইকরণ, এককালীন পাসওয়ার্ড

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ ক্ষুদ্র ঋণপ্রার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং দেশের ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার চ্যালেঞ্জও গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।