বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের হাওরাঞ্চলে পাকা ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঢলের ঠান্ডা পানি ও প্রবল বাতাসের কারণে কৃষকেরা দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে থেকে ধান কাটতে পারছেন না। যেসব এলাকায় ধান কাটা হয়েছে, সেখানেও রোদ না থাকায় তা শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাড়াই করা ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলে ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি ধানখেত তলিয়ে গিয়ে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় কাটা ধান পানিতে ভিজে অঙ্কুরিত হয়ে যাচ্ছে, যা পরবর্তীতে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
রোদের অভাবে ধান শুকাতে না পারায় কৃষকেরা বড় সংকটে পড়েছেন। অনেক জায়গায় ধান স্তূপ করে রাখার পরও তা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিক সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে পরিবারভিত্তিক শ্রমের ওপর নির্ভর করেই অনেক কৃষক ধান কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিচের সারণিতে বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| এলাকা | পরিস্থিতি |
|---|---|
| সুনামগঞ্জ (দেখার হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মধ্যনগর) | পানি বৃদ্ধি, ধান কাটা ও বাদাম উত্তোলনে ক্ষতি, ধান পচন ও অঙ্কুরোদগম |
| কিশোরগঞ্জ (করিমগঞ্জ, বড় হাওর) | শ্রমিক সংকট, পরিবারভিত্তিক ধান কাটা, আধা পাকা ধান সংগ্রহ |
| নেত্রকোনা (হাওরাঞ্চল) | বৃষ্টিতে ধানখেত তলিয়ে ক্ষতি |
| মৌলভীবাজার (জুড়ী, কালনীগড়) | পানিতে থাকা ধান কাটা, শুকাতে না পারা, ধান থেকে চারা গজানো |
| গাজীপুর (শ্রীপুর) | পাকা ধানখেত পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া (নাসিরনগর, সোনাতলা) | পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটা ও নৌকায় পরিবহন |
বিভিন্ন জেলার হাওরাঞ্চলে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকা ধান কেটে কৃষকেরা দ্রুত বাড়িতে আনতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু শুকানোর সুযোগ না থাকায় তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও কাটা ধান নৌকায় করে বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও পরিবারের শিশুসহ সবাই মিলে ধান কাটার কাজে অংশ নিচ্ছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরের পশ্চিম অংশে চাষ করা চিনাবাদামও বৃষ্টি ও ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কৃষকেরা দ্রুত বাদাম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সর্বমোট পরিস্থিতিতে হাওরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ধান উৎপাদন ও সংগ্রহ কার্যক্রম একযোগে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকেরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।