জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ডেভ হোয়াটমোর নামটি অত্যন্ত চেনা ও শ্রদ্ধার। প্রায় দুই দশক আগে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও এ দেশের ক্রিকেটের আধুনিক ভিত্তি তৈরিতে তার ভূমিকা আজও স্মরণ করে ক্রীড়ামোদী মানুষ। দীর্ঘ দিন পর আবারও সেই স্মৃতিবিজড়িত বাংলাদেশে পা রেখেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। তবে এবার ভিন্ন পরিচয়ে—মালয়েশিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট ও হেড কোচ হিসেবে। পুরোনো চেনা আঙিনায় ফিরে একদিকে যেমন আবেগে ভেসেছেন, অন্যদিকে নিজের শিষ্যদের জন্য এই সফরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।
রোববার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন হোয়াটমোর। সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেটীয় সুযোগ-সুবিধা ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে তাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট রয়েছে। তার আগে বাংলাদেশে এসে এমন হাই-প্রোফাইল দলের মুখোমুখি হওয়া এবং অনুশীলনের চমৎকার সুযোগ পাওয়া মালয়েশিয়া দলের প্রস্তুতিকে অনেক দূর এগিয়ে দেবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মালয়েশিয়া এখনো অ্যাসোসিয়েট বা উদীয়মান দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে, যাদের বর্তমান আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিং ২৫। পূর্ণাঙ্গ টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের মূল দলের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ের সুযোগ তাদের সচরাচর হয় না। তাই এই অভাব পূরণ করতেই বিসিবির আমন্ত্রণে এই সফর। সূচি অনুযায়ী, বিসিবি হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পাশাপাশি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে তিনটি একদিনের ম্যাচে মাঠে নামবে মালয়েশিয়া।
ইতিমধ্যে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে এইচপি দলের কাছে ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে মালয়েশিয়া। শুরুতে বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ চালিয়ে বাংলাদেশকে খানিকটা চাপে ফেললেও পরবর্তীতে সে ধারা বজায় রাখতে পারেনি তারা। তবে এই বড় হার সত্ত্বেও এতটুকু বিচলিত নন অভিজ্ঞ শিক্ষক হোয়াটমোর। বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে এমন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়াকেই দলের আত্মতুষ্টি কাটানোর উপায় বলে মনে করেন তিনি।
হোয়াটমোর বলেন, কম ক্ষমতার দলগুলোর সঙ্গে খেলে নিজেদের শক্তি যাচাই করা যায় না; আরামদায়ক অবস্থান থেকে বেরিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেই কেবল ঘাটতিগুলো স্পষ্ট হয়। বিসিবি এইচপি দলে ঘরোয়া ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন পরীক্ষিত তারকা রয়েছেন, যাদের বিপক্ষে খেলে তার দল শেখার অনেক রসদ পাচ্ছে। প্রথম ম্যাচে ১০টি উইকেট নেওয়া এবং দুর্দান্ত ফিল্ডিং উপহার দেওয়ার জন্য শিষ্যদের প্রশংসাও করেন তিনি, যদিও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে বাংলাদেশের বর্তমান পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে কথা বলেন হোয়াটমোর। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানার ইনজুরি ও ছিটকে যাওয়া প্রসঙ্গে আক্ষেপ ঝরে পড়ে তার কণ্ঠে। তিনি বলেন, নাহিদ রানা একজন দারুণ সম্ভাবনাময় ও গতিময় বোলার, যাকে পুরো দল মিস করছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ার গড়তে হলে শতভাগ ফিট হয়েই মাঠে ফেরা উচিত বলে মনে করেন এই অভিজ্ঞ কোচ।
মন্তব্য