জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারী ও এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। রোববার দুপুরে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চর রমজানবেগ গ্রামসংলগ্ন নদী থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া নারীর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর এবং পুরুষের বয়স প্রায় ৪৫ বছর। নদীর পানিতে থাকার কারণে মরদেহ দুটিতে ইতোমধ্যে পচন ধরেছে। প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
রোববার দুপুর ২টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে গজারিয়া নৌ-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে নদী থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। বিশেষ করে নারীর দুই পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মরদেহের এই অবস্থানকে ঘিরে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।
স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, কয়েক দিন আগে ওই নারী ও পুরুষকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি কেবল স্থানীয়দের ধারণা; হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। মরদেহের ময়নাতদন্ত এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। নারীর দুই পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। পুরুষের মরদেহেও পচন ধরেছে। উদ্ধার করা মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিহত দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা। পরিচয় নিশ্চিত হলে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গত কয়েক দিনে তারা কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে ছিলেন কিংবা কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন—এসব তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নদীতে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে এবং মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে।
মন্তব্য