জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৯:২৬ পিএম

গাজা যুদ্ধ নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিকল্পনা সোজা সাপ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি অস্ত্রমুক্ত না করা পর্যন্ত গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের সূত্রমতে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ফেরাতে এই ১৫ দফার বিস্তারিত একটি রূপরেখা তৈরি করেছিল। তবে জেরুজালেমে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনায় নেতানিয়াহু প্রস্তাবটির মূল শর্তগুলোর তীব্র বিরোধিতা করেন। গাজায় হামাসের কোনো ধরনের সামরিক সক্ষমতা বা প্রশাসনিক উপস্থিতি রেখে ইসরায়েল চুক্তি সই করবে না বলে জানান তিনি।
নেতানিয়াহুর মতে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের অচলাবস্থা কাটাতে একাধিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে দু-একটি ধারা ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানের সঙ্গে মিললেও, মূল ভিত্তিগুলো তাদের জন্য অগ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে যুদ্ধ থামিয়ে সেনা প্রত্যাহার ও গাজার প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন সংক্রান্ত শর্তে তাদের ঘোর আপত্তি রয়েছে। হামাসের কেবল লোকদেখানো বা কাগজে-কলমে বিলুপ্তি চায় না ইসরায়েল। বাস্তবে তাদের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালু রাখার ঘোষণায় অনড় তেল আবিব।
অবশ্য নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থ বজায় রেখে প্রস্তাবটি কীভাবে সংশোধন করা যায়, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তেল আবিব। মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কিছুটা ইতিবাচক আবহ তৈরি হলেও ইসরায়েলের এই অনমনীয় মনোভাব নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি করল।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকবার সংঘাত থামানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ওয়াশিংটন বিভিন্ন সময় যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিমুক্তির চুক্তি বাস্তবায়নে মধ্যস্থতা করেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ এই ১৫ দফার পরিকল্পনায় যুদ্ধ স্থগিত করা, আন্তর্জাতিক তদারকিতে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো এবং যুদ্ধপরবর্তী গাজার ব্যবস্থাপনা চালুর কথা বলা হয়। কিন্তু তেল আবিবের দাবি, এতে তাদের প্রধান সামরিক লক্ষ্য অর্থাৎ হামাসকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্রমাগত হামলায় তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার সংকটে গাজার লাখ লাখ বাসিন্দার জীবন বিপন্ন। এমন সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে নতুন করে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরো ঘনীভূত করছে। আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে গাজার যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ।
মন্তব্য