শেরপুরে ভোটকেন্দ্রে কারচুপি, তিন বছরের সাজা

শেরপুর-১ (সদর) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে ভোটপত্র চুরি ও ভোটার প্রতারণার চেষ্টা ধরা পড়েছে, যার ফলে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ এখন নির্বিঘ্নে চলছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, চর মছোরিয়া ইউনিয়নের নলবাইয়াড দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেই। প্রিসাইডিং অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে ভোট গ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছিল। তবে সকাল প্রায় ১০টার দিকে কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি কেন্দ্রে প্রবেশ করে দুটি আলাদা কক্ষে রাখা মোট তিনটি ভোটপত্র চুরি করে চলে যায়। এর মধ্যে দুটি ভোটপত্র জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং একটি ভোটরাভোট রেফারেন্ডামের জন্য নির্ধারিত ছিল।

পরে কর্তৃপক্ষ একটি সংসদ নির্বাচনের ভোটপত্র উদ্ধার করেছে, যেখানে “ধানের শীষ” প্রতীকের জন্য চিহ্নিত ভোট রয়েছে। তবে এক সংসদ ভোটপত্র এবং রেফারেন্ডাম ভোটপত্র এখনও অনুপ্রাপ্য। সেনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে কেন্দ্রের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন।

চুরি ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে:

নামপিতার নামবয়সসংস্থা ও অভিযোগসাজা/ফলাফল
বেলাল হোসেনহাবিবুর রহমান৪৮ধানের শীষ সমর্থক, ভোটার প্রতারণার চেষ্টামোবাইল কোর্টে ২,০০০ টাকা জরিমানা, মুক্তি
মোঃ মাসুদ মিয়াআবুল হাসানধানের শীষ সমর্থক, ভোটার প্রতারণার চেষ্টাসিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ৩ বছর কারাদণ্ড

কার্যকর ম্যাজিস্ট্রেট শিবরাজ চৌধুরী জানান, চুরি হওয়া ভোটপত্রের পাশাপাশি প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কেন্দ্রটিতে প্রায় ২৫টি জাল ভোট পড়েছে। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরবিহীন ভোটপত্র বাতিল করা হবে। কিছু জাল ভোট দ্রুত বাতিল করা হয়েছে, বাকি ভোট গণনার সময় অবৈধ ঘোষণা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহবুবা হক নিশ্চিত করেছেন যে ভোটকেন্দ্র এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ। তিনি বলেন, ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনে পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য প্রশাসন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

স্থানীয় মানুষদের মধ্যে এই ঘটনার কারণে ভোট প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা এবং সততার বিষয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপই স্বচ্ছ নির্বাচন এবং জনমানসে আস্থা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।